ইসরায়েলের বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ বিপর্যয় ও আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এমন অভিযোগ করেছেন সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি।
সম্প্রতি সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে আটবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি সিরিয়ার ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ, অপহরণ গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানান ইব্রাহিম ওলাবি।
এদিকে, জাতিসংঘের কর্মকর্তারা সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেছেন। দেশটিতে এখনো ৫৫ লাখের বেশি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত। এর মধ্যে ৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ ১ হাজার ২০০টিরও বেশি শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে স্থলমাইন ও বিস্ফোরকের আঘাতে হতাহত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি। এদের মধ্যে ৮৬৫ জন নিহত হয়েছেন।
ইব্রাহিম ওলাবি জানান, উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সিরিয়া আন্তরিকভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে ইসরায়েল হামলা ও অনুপ্রবেশ বন্ধ না করলে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
সিরিয়ায় জাতিসংঘের উপ-দূত ক্লদিও কর্দোনে বলেন, ‘দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াকে তিনি স্বাগত জানান।
তবে, দারিদ্র্য ও মূল্যস্ফীতি এখনো ব্যাপক এবং অধিকাংশ সিরিয়াবাসীর জীবনযাত্রা কঠিন বলে সতর্ক করেন ক্লদিও কর্দোনে।
একই সঙ্গে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের স্থল অভিযান, বাড়িতে তল্লাশি এবং ব্যক্তিগত ও কৃষিজ সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনাও তুলে ধরেন।
সূত্র : আরব নিউজ
কেকে/এমএ