রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় অটোচালক মোখলেছুর রহমান (৫৫) হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতের ছেলে মিজানুর রহমান বাদী হয়ে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১১টার দিকে উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের কাউয়াফান্দা এলাকায় একটি বাড়ির সামনে থেকে মোখলেছুর রহমানের গলাকাটা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার অটোরিকশাটিও নিখোঁজ রয়েছে।
তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস এলাকার মৃত হামিদুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ি থেকে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বের হন মোখলেছুর রহমান। রাতে কাউয়াফান্দা এলাকায় একটি বাড়ির সামনে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
সুরতহাল শেষে রাতেই লাশ থানায় নেওয়া হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মোখলেছুর রহমানের অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি। ফলে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও পূর্বশত্রুতাসহ হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী, ভাই ও স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে মোখলেছুর রহমান ও তার ভাইদের সঙ্গে একটি প্রভাবশালী পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাদের।
তাদের ধারণা, ওই বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মোখলেছুর রহমানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান দুলু বলেন, “ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বাদ মাগরিব স্থানীয় নবনীদাস কবরস্থানে মোখলেছুর রহমানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।”
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, “নিহতের ছেলে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অটোরিকশাটি এখনো উদ্ধার হয়নি। হত্যার কারণ কী এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কেকে/সাশ