সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: সেপ্টেম্বরে অপরিবর্তিত থাকবে জ্বালানি তেলের মূল্য      হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৫৬      দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সেমিনার পুলিশের বাধায় বাতিল      মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে তলব দুদকের      সাগর-রুনি হত্যায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন মিলেছে’ : চিফ প্রসিকিউটর      ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মাইলফলক হবে লালদিয়া টার্মিনাল : অর্থমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
অনিয়মে জর্জরিত শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, দেড় কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে-দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ট্যাক্স রিটার্নের প্রমাণপত্রের অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, জমির মূল্য কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, দলিলে সামান্য ত্রুটির অজুহাতে ঘুষ দাবি এবং জাল দলিলের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ।

পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি দপ্তরের প্রধান গেট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও নেই কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অফিসকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নানা আইনি জটিলতার কথা বলে সাধারণ জমি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এতে একদিকে যেমন সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারও বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

জানা যায়, ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন শংকর কুমার ধর। যোগদানের পরপরই বিভিন্ন দলিলে সরকার নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফির বাইরে অতিরিক্ত ১ থেকে ৫ শতাংশ অর্থ আদায়, হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে তার অপসারণের দাবিতে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ থেকে টানা দুই দিন কর্মবিরতি পালন করেন শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখকরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, যোগদানের পরপর সাব-রেজিস্ট্রার বিভিন্ন ধরনের দলিলে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রবণতা শুরু হয়। তার দাবি, উত্তরাধিকারী দলিলের ক্ষেত্রে ছেলে বাবদ ৫ হাজার এবং নাতি বাবদ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে মির্জাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিছলু আহমেদের একটি দলিল নিবন্ধনের সময় অতিরিক্ত ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদের এক আত্মীয়ের দলিল নিবন্ধনে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল লেখকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। 

এ ছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার যোগদানের পর অফিসে ব্যবহারের জন্য শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়রের দেওয়া চেয়ারগুলো টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করে দেন। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই খাস কামরাকে পার্টিশন দিয়ে দুটি কক্ষে ভাগ করেছেন। 

তবে এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাব রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর। 

তিনি বলেন, ‘আমি যোগদানের পরপরই নতুন ভূমি আইন বাস্তায়নকে কেন্দ্র করে দলিল লেখক ও জমির মালিকদের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। জমি নিবন্ধন আইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ও হালনাগাদ হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। আমি সরকারি ফির বাইরে কারও কাছ থেকে বাড়তি কোনো ফি নিইনি।’ 

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের নামে প্রায় দেড় কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। পূর্বের বায়না দলিল গোপন রেখে জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম দেখিয়ে পরবর্তী দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে এ অনিয়ম করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি করেন। 

এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মো. জসিম মিয়া। অভিযোগের অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। 

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শ্রীমঙ্গলের রাধানগরের গৌতম রুদ্র পালসহ তিন ব্যক্তি ২০২০ সালের ৮ জুন ভানু লাল রায়ের কাছে ৪ দশমিক ২৭২৬ একর জমি ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় বিক্রির জন্য ১৬২২ নম্বর বায়না দলিল নিবন্ধন করেন। ওই সময় বায়না বাবদ ৬০ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। 

অভিযোগকারীর দাবি, পরবর্তী সময়ে ক্রেতাপক্ষ ও দলিল লেখকের যোগসাজশে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় দেখিয়ে সরকারি মৌজা দর বা জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেখানো হয়। এতে সরকার প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগে বিভিন্ন নম্বর দলিলসহ আরও বিভিন্ন দলিলে জমির মূল্য কম দেখিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, বিষয়টি সরকারি অডিট সংস্থাকেও অবহিত করা হয়েছে। 

অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর দৈনিক খোলা কাগজকে  বলেন, ‘জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটি এখন তদন্ত করা হচ্ছে। তবে দলিলগুলোর বায়না রেজিস্ট্রি হয়েছে ২০২০ সালে, আর আমি যোগদান করেছি ২০২৪ সালে। বায়না রেজিস্ট্রি গোপন রাখা হয়েছিল কি না, তা আমার জানা ছিল না।’ 

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনে গিয়ে এটি তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ট্যাক্স রিটার্নের প্রমাণপত্র বা পিএসআরকে কেন্দ্র করেও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। 

অভিযোগকারীদের দাবি, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিন সার্টিফিকেট বা আয়কর রিটার্নের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক-এমন কথা বলে অনেক ক্রেতা-বিক্রেতাকে জটিলতায় ফেলা হচ্ছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে দলিল নিবন্ধন করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। 

বাংলাদেশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধান অনুযায়ী, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৪(৭) ধারায় সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয়, হস্তান্তর কিংবা বায়নানামা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) দাখিলের বিধান রয়েছে। 

তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিধানকে কাজে লাগিয়ে অফিসের একটি অসাধু চক্র সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমানের স্ত্রী দিলারা বেগম ১০ শতাংশ জমির বায়না নিবন্ধন করতে গিয়ে আয়কর সনদ ও রিটার্নের বিষয়টি জানতে পারেন বলে অভিযোগ করেছেন।

দিলারা বেগমের দাবি, তার নামে আয়কর সনদ না থাকায় তিনি সমস্যায় পড়েন। এ সুযোগে অফিসের এক কর্মকর্তা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং আয়কর সনদ বা রিটার্ন ছাড়াই বায়না নিবন্ধন করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে দর-কষাকষির পর ৩০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে তার অভিযোগ। গত ২৪ মে ৬০ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা ওই ১০ শতক জমির বায়না ৩০ লাখ টাকা মূল্যে নিবন্ধন করা হয় বলে জানা গেছে। দলিল নম্বর ২৩৫০। 

এ অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, ‘পৌরসভা এলাকার জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র প্রয়োজন। তবে টিন সনদ না থাকা সত্ত্বেও একটি দলিল নিবন্ধনের ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ জুলাই এনসিপি নেতা প্রীতম দাসের সুপারিশে ওই দলিল সম্পাদন করা হয়েছিল। এ নিয়ে অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে এজন্য কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।’ 

দিলারা বেগমের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্ট্রার জানান, তিনি সেদিন অফিসে ছিলেন না। সুনির্দিষ্ট বক্তির নামে অভিযোগ দিলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ট্যাক্স রিটার্ন নয়, জমির শ্রেণি, মূল্য কিংবা দলিলে রাস্তার উল্লেখসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজন জানান, দলিলে সামান্য ভুল বা সংশোধনের অজুহাতেও ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধন আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে। 

লোটা হোসেন নামে এক সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, জমির পাশে ব্যক্তিগত রাস্তা থাকায় সেটি বৈধ করতে তাকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। 

মো. শাহাব উদ্দিনের অভিযোগ, দলিলে রাস্তার উল্লেখ থাকলেই সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। তার দাবি, এসব অর্থের বিপরীতে কোনো সরকারি চালান জমা হয় না এবং দলিল লেখকের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার নিজেই তা আদায় করেন। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমির দলিল রেজিস্ট্রি করতে এসে জালিয়াতির বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রারের নজরে আসে। বিষয়টি টের পেয়ে সাব-রেজিস্ট্রার তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করেন। তবে তার সঙ্গে আসা একজন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিলের রেজিস্ট্রি স্থগিত করা হলেও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়নি।

জানা যায়, ঘটনার পর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে শ্রীমঙ্গল থানায় ফোন করে পুলিশ ডাকা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও রহস্যজনক কারণে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দলিল লেখক কুমুদ চন্দ্র সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে। 

এ বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, ‘রেজিস্ট্রি করতে নিয়ে আসা দালাল ব্যক্তি বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক পালিয়ে গেছে। যাকে আটক করা হয়েছিল, তিনি নেহায়েতই গরিব। দালালের খপ্পরে পড়ে তিনি এ কাজটি করতে চেয়েছিলেন। পরে দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়নি। অভিযুক্তকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং দলিল লেখকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ 

অভিযোগের বিষয়ে দলিল লেখক কুমুদ চন্দ্র সরকারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বক্তব্য চাইলে তিনি বারবার ফোন কেটে দেন।

এদিকে দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল সাব-রেজিস্টি অফিসের অবকাঠামোগত দুরবস্থাও চোখে পড়ার মতো। 

সরেজমিন দেখা যায়, অফিসের প্রধান প্রবেশপথের গেটটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, প্রধান গেট বা আশপাশে অফিসের নাম-সংবলিত কোনো দৃশ্যমান সাইনবোর্ড নেই। ফলে প্রথমবার অফিসে আসা অনেক সেবাগ্রহীতাকে দূর থেকে অফিসটি শনাক্ত করতে সমস্যায় পড়তে হয়। 

সুমন মিয়া নামে এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘দেশের অন্যান্য এলাকার অনেক সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সুরক্ষিত সীমানাপ্রচীর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পরিচালিত হলেও শ্রীমঙ্গল অফিসের চারপাশ অনেকটা খোলা এবং প্রধান গেটও ভাঙাচোরা।’ 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অফিস থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেলেও সেই তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। তারা দ্রুত প্রধান গেট সংস্কার, দৃশ্যমান সাইনবোর্ড স্থাপন এবং পুরো অফিসের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। 

অবকাঠামোগত দুরবস্থার বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার শংকর কুমার ধর বলেন, ‘অফিসের গেট, সীমানা প্রাচীর ও সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা নেওয়া হবে।’

সাইনবোর্ড না থাকার প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গেটের যে অবস্থা সাইবোর্ড লাগানোর জায়গাই তো নেই। আর সাবরেজিস্ট্রার অফিস চিনে না এমন কেউ আছেনি। আপনারা লেখালেখি করেন। আমরাও চেষ্টা করছি।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  শ্রীমঙ্গল   সাব-রেজিস্ট্রি অফিস   রাজস্ব ফাঁকি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close