মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণপাঠাগারের প্রবেশপথের সামনে সরকারি সম্পত্তি বাঁশের বেড়া দিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এতে পাঠাগারে আসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ পাঠকদের নিয়মিত চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। জনস্বার্থবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন— খালিয়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাইদ মন্ডল, এনামুল হক এবং সাবেক বিডিআর সদস্য মনিরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালিয়া এলাকার মৃত মজিদ মন্ডলের ছেলে রিয়াজ আলীর কাছ থেকে ১৯৬৮ নম্বর দাগের ৩ শতাংশ জমি বাজার মূল্যে ৮ হাজার টাকায় ক্রয় করে খালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে লিখিত চুক্তির (স্ট্যাম্প) মাধ্যমে জমিটি ক্রয়ের পর থেকেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ভোগদখল করে আসছে এবং পরবর্তীতে সেখানে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য একটি গণপাঠাগার নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি পাঠাগারটির সামনের সরকারি খাস জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিন ব্যক্তি।
স্থানীয়দের মতে, কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বেআইনিভাবে সরকারি সম্পত্তি এভাবে কুক্ষিগত করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
খালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু মোতালেব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাইদ মন্ডল, এনামুল ও মনিরুল গায়ের জোরে পাঠাগারের সামনের সরকারি জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। এ বাঁশের বেড়ার কারণে বিদ্যালয়ে যাতায়াতকারী কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। সাধারণ শিক্ষা ও পাঠাগারের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা তাদের কাছে অনতিবিলম্বে এ অবৈধ বেড়া অপসারণের জোরালো দাবি জানাচ্ছি।’
তবে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আবু সাইদ মন্ডল, এনামুল হক ও মনিরুল ইসলাম।
তাদের দাবি, মূল জমির মালিক রিয়াজ আলী ২০১৮ সালে আমাদের কাছেও জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি করে দেন। পাঠাগারের সামনের জায়গাটি সরকারি খাস জমি—এটি সত্য। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেহেতু সেখানে প্রথমে মাটি ফেলেছে, তাই আমরাও নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁশের বেড়া দিয়েছি।
মহম্মদপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদমান আকিব বলেন, ‘খালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণপাঠাগারের সামনের সরকারি জমি অবৈধভাবে ঘেরাও করার বিষয়টি আমরা জেনেছি। সরকারি সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই