মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রতিবেশী বাড়িওয়ালাকে রাতে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের অনুরোধ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছেলের বউকেও মারধর করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী খন্দকার (৭৫) এবং তার ছেলের বউ ডালিয়া আক্তার (৩০)।
আহমদ আলী খন্দকার বলেন, ‘কয়েক বছর আগে আমার বাড়ির পাশে জায়গা কিনে মেঘনা উপজেলার লুটেরচর গ্রামের মৃত লপ্তা আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম বাড়ি নির্মাণ করেন এবং তা ভাড়া দেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার জন্য লোকজন নিয়ে আসেন। ময়লা নিষ্কাশনের জন্য আমার বাড়ির ওপর দিয়ে পাইপ নেওয়া হয়। কাজ শুরু করার পরপরই সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। তখন আমি তাদের কাজ আপাতত বন্ধ রেখে রাতে কাজ করার অনুরোধ করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষিপ্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম আমাকে কিল-ঘুসি মারেন এবং পরবর্তীতে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। আমার চিৎকার শুনে ছেলের বউ ডালিয়া আক্তার বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। এ সময় শফিকুল ইসলামের ৩-৪ জন সহযোগী সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মৌমিতা আক্তার বলেন, ‘বিকালে তাকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি বুকেও ব্যথা অনুভব করছেন। তার পূর্ব থেকেই হার্টের সমস্যা থাকায় আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিচ্ছি।’
এদিকে মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন গজারিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনিসুর রহমান গাফফার বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে বেধড়ক মারধর করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’
এ ঘটনায় সন্ধ্যায় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে শফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই