মনের এক গহিন কোণে লুকিয়ে থাকে কত কথা। মুখে বলতে গিয়ে থেমে যায় অনেক অনুভূতি। অথচ সেই না-বলা কথাগুলোই খুব সহজে ফুটে উঠত সাদা কাগজের পাতায়। কখনো কয়েকটি শব্দে, কখনো এক-দুই লাইনে—কখনো আবার কবির কাব্যিকতায়। সেই অনুভূতিরই নাম ছিল ‘চিঠি’।
একসময় দূর প্রবাসে থাকা সন্তানের কাছে মায়ের ভালোবাসা পৌঁছে যেত বাদামি খামে। লাল-নীল খামে প্রেমিকের আবেগ আর ভালোবাসার আবেদন পৌঁছাত প্রিয় মানুষের কাছে। চিঠির পাতায় জমা থাকত অপেক্ষা, অভিমান, আনন্দ, কষ্ট, ভালোবাসা আর চাওয়া-পাওয়ার অসংখ্য গল্প।
আজ ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব চিঠি দিবস। ডিজিটাল যোগাযোগের দ্রুতগতির এই সময়ে চিঠির ব্যবহার অনেকটাই কমে এসেছে। মুঠোফোনের বার্তা, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দখল করে নিয়েছে মানুষের যোগাযোগের বড় অংশ। তবু কাগজে হাতে লেখা চিঠির আবেদন এখনো মানুষের হৃদয়ে রয়ে গেছে। শুধু বদলে গেছে এর ব্যবহার ও ধরন।
একটি হাতে লেখা চিঠির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রেরকের সময়, যত্ন ও আবেগ। নিজের হাতে লেখা অক্ষর, কাগজের গন্ধ কিংবা খাম খুলে প্রিয় মানুষের লেখা পড়ার অনুভূতি—এসবের সঙ্গে ডিজিটাল বার্তার আবেগের পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রযুক্তির যুগেও চিঠি অনেকের কাছে নস্টালজিয়া ও আবেগের প্রতীক।
২০১৪ সালে অস্ট্রেলীয় লেখক ও চিত্রশিল্পী রিচার্ড সিম্পকিন বিশ্ব চিঠি দিবস চালু করেন। ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুতগতির যুগে মানুষ যেন কাগজ-কলমে হাতে লেখা চিঠির আনন্দ, আন্তরিকতা ও আবেগ ভুলে না যায়—এ উদ্দেশ্যেই দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সময়ের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম বদলেছে, বদলেছে চিঠির ধরনও। তবু কিছু অনুভূতি আছে, যা হয়তো আজও একটি সাদা কাগজে নিজের হাতে লিখে প্রকাশ করলেই সবচেয়ে বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে।
কেকে/সাশ