নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার হওয়া একরামুল হক (৬০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। স্বজনদের অভিযোগ, গলা কাটার পর মুখে বিষ ঢেলে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডোমার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলী।
নিহত একরামুল হক ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হলহলিয়া তেলিপাড়া গ্রামের মো. ছকিউল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোরে একরামুল হককে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া অবস্থায় গুরুতর আহত হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাতিজা রতন ইসলাম বলেন, “সেদিন রাতে চাচা প্রস্রাব করার জন্য বাড়ির বাইরে যান। প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর চাচাতো ভাইয়েরা এসে চাচা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানান। এরপর ভোর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে এক স্থানীয় ব্যক্তি এসে জানান, চাচা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। সেখানে গিয়ে প্রথমে আমরা তাকে মৃত মনে করেছিলাম। পরে শরীর নাড়াচাড়া করলে তিনি জীবিত আছেন বুঝতে পারি। এরপর তাকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আমাদের ধারণা, গলা কাটার পর চাচার মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়েছিল।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে একরামুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
ডোমার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলী বলেন, “তাদের মধ্যে আগে থেকেই জমিজমা-সংক্রান্ত একটি বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরে হয়তো তার গলা কেটে সেখানে রেখে যাওয়া হয়েছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কেকে/সাশ