রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও যাত্রাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে জেনেভা ক্যাম্পের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিসহ ১৫ জনকে আটক করেছে র্যাব-২।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শূটার গান, একটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি সামুরাই, একটি চাপাতি, এক কেজি ২৫০ গ্রাম হেরোইন, ৮২০ গ্রাম গান পাউডার, এক হাজার ৫০ পিস ইয়াবা ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার বটতলা এলাকা থেকে জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি মো. জাহিদ কাদেরী ওরফে মোল্লা জাহিদকে ৯০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়। লাউতলা এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহিম সরকার ওরফে রাব্বিকে একটি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলিসহ আটক করা হয়।
একই এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং লিডার মো. রিয়াদ হোসেন ওরফে রজব আলীকে একটি চাপাতি এবং মো. রমজানকে একটি সামুরাইসহ আটক করা হয়।
এ ছাড়া কিশালয় স্কুল এলাকা থেকে ছিনতাইকারী মো. ইয়াসিন কবির ওরফে অয়নকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। সাত মসজিদ হাউজিং এলাকা থেকে মো. নাজমুলকে একটি সামুরাইসহ এবং লিমিটেড এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি মো. জুনায়েদকে আটক করা হয়। শিয়া মসজিদ এলাকা থেকে একাধিক মামলার আসামি মো. বাবু এবং মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকা থেকে ছিনতাই মামলার আসামি মো. মাহবুবকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানকালে সাত মসজিদ হাউজিংয়ের জনতা বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শূটার গান ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, শেরেবাংলা নগর থানার তালতলা এলাকা থেকে পাঁচটি মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. মনির বেপারীকে আটক করা হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার রেলগেট এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৫০ গ্রাম হেরোইন ও ৮২০ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করে র্যাব।
এ ছাড়া মোহাম্মদপুর থানার রায়েরবাজার বেড়িবাঁধের শুটকির আড়ৎ এলাকা থেকে ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. শামীমকে একটি সামুরাইসহ আটক করা হয়। একই রাতে যাত্রাবাড়ি থানার মুক্তিযোদ্ধা রোড এলাকায় পৃথক অভিযানে মো. জাকির হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম সুমন, সোলায়মান হোসেন রাজু ওরফে রাজিব এবং মো. শফিকুর রহমানকে এক হাজার ৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
র্যাব জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে জাহিদ কাদেরীর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। ইব্রাহিম ওরফে রাব্বির বিরুদ্ধে একটি দস্যুতা মামলা রয়েছে। মনির বেপারীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা ও দুটি ওয়ারেন্ট রয়েছে। রমজানের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও অস্ত্র আইনে তিনটি মামলা এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া আটক মাহবুব, সোলায়মান রাজু, শফিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও জাকিরের বিরুদ্ধেও মাদক, চুরি, মারামারি, দাঙ্গা, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কেকে/এআই