দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে (সোশ্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টি) তীব্র ওয়াশরুম বিড়ম্বনায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে একই শৌচাগার ব্যবহার করতে হচ্ছে ছাত্র ও ছাত্রীদের।
কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভবনের পঞ্চম তলায় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের একটি ওয়াশরুমের সামনে ‘পুরুষ ওয়াশরুম’ (মেইল ওয়াশরুম) লেখা থাকলেও বাধ্য হয়ে সেটি ছাত্র ও ছাত্রীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত সেখানে তৈরি হচ্ছে চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতি ও নানাবিধ অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনুষদ ভবনে পর্যাপ্ত বা কার্যকর ওয়াশরুমের সুবিধা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের। ছাত্রীদের জন্য আলাদা নিরাপদ বা ব্যবহারোপযোগী শৌচাগার না থাকায়, নিরুপায় হয়ে এই পুরুষ চিহ্নিত ওয়াশরুমটিই ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়াশরুমটির প্রবেশমুখে পুরুষদের ব্যবহারের সাইনবোর্ড ঝুলছে। কিন্তু অনুষদের ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্র ও ছাত্রীদের একই ওয়াশরুমে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় ওয়াশরুমের ভেতরে একজন অবস্থান করলেই বাইরে অন্য লিঙ্গের শিক্ষার্থীকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। যা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও লজ্জাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমাদের ন্যূনতম মৌলিক অধিকার ও গোপনীয়তার জন্য এভাবে প্রতিদিন লজ্জায় পড়তে হবে তা ভাবাই যায় না। পুরুষ লেখা ওয়াশরুমে ঢুকতে যেমন আমাদের অস্বস্তি হয়, তেমনি ভেতরে কোনো ছেলে থাকলে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাটা চরম মানহানিকর।’
আরেক ছাত্র বলেন, ‘এখানে সাইনবোর্ড দেওয়া থাকলেও এটি কার্যত একটি ‘কমন ওয়াশরুম’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় হুট করে ঢুকতে গিয়ে সহপাঠী বা অন্য ছাত্রীদের সামনে পড়তে হয়, যা দুইজনের জন্যই অত্যন্ত বিব্রতকর।’
তিনি জানান, তালাবদ্ধ রুমটি মূলত ফিমেল ওয়াশরুম হওয়ার কথা। কিন্তু অতীতে এটি শিক্ষকরা ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ থাকে। আমরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাই।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অনুষদ কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রগতিশীল জায়গায় যেখানে জেন্ডার সমতা ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে পড়াশোনা করানো হয়, সেখানেই এমন জেন্ডার-সংবেদনহীন ও অপরিকল্পিত ওয়াশরুম ব্যবস্থা অনতিবিলম্বে সংস্কার করা দরকার।
এই বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. আব্দুর রশিদ মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি অসুস্থ। হাসপাতালে আছি। আগামি রোববার বিষয়টি সরেজমিনে দেখব। খুব দ্রুতই শিক্ষার্থীদের এই সমস্যার সমাধান করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
কেকে/এমএ