পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শাহিনুর ইসলাম (৪০) নামে বিএনপির কর্মী ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত শাহিনুর ইসলাম চরগড়গড়ি গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার চরকুড়ুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচনে মোট ১৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন চারজন— কামাল, আরিফ, শিপুল ও মজনু। ভোট গণনা শেষে মজনু ১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে শিপুল তিন ভোট, কামাল এক ভোট এবং আরিফ কোনো ভোট পাননি। মজনু বিজয়ী হওয়ার পর তার সমর্থকরা আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করেন। তবে ফলাফল ঘোষণার পরপরই পরাজিত প্রার্থী শিপুল পন্থী কিছু লোক এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং অফিস কক্ষের চেয়ার ভাঙচুর চালান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিবাদ ও উত্তেজনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে হাতাহাতি শুরু হয়। স্থানীয় মুরুব্বিদের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলে মজনু গ্রুপের লোকজন বিদ্যালয় ত্যাগ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু তারা স্কুলের গেট পার হওয়ার সময় শিপুল পন্থী লোকজন পিছন থেকে তাদের ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালায়। হামলায় শাহিনুর ইসলামের পায়ে চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়, খোকনকে কিল-ঘুষি মারা হয় এবং বিজয়ী পক্ষের মজনুকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়।
পরে আহত ব্যক্তিরা পালিয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত শাহিনুর ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুর রহমান আসাদ বলেন, ‘স্কুল কমিটি নিয়ে বিজয় প্রার্থী এবং পরাজিত প্রার্থীর সংঘর্ষের খবর শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
কেকে/এআই