গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে লোকালয়ে ঢুকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জন মানুষ এবং দুটি গরুকে কামড়ে আহত করা সেই শেয়ালটি জলাতঙ্কের ভাইরাস বহন করছিল। শেয়ালটির মাথা থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায় জলাতঙ্ক ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও জিগাবাড়ী গ্রামে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে শেয়ালটি। এরপর পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা মানুষের ওপর একের পর এক হামলা চালায়। শেয়ালের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ ৯ জন আহত হন। একই সময় দুটি গরুকেও কামড় দেয় এটি। পরে স্থানীয়রা শেয়ালটিকে ধরে মেরে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখেন।
আহতরা হলেন তালুক বেলকা গ্রামের মো. জমশের আলীর স্ত্রী মোছা. নিলি বেগম (৪০), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাদেক হোসেন (৭০), মো. আব্দুল হান্নান মিয়ার স্ত্রী মোছা. আফরুজা বেগম (৩৭) ও মো. শফিউল ইসলামের ছেলে মো. শাওন মিয়া (৬)। জিগাবাড়ী গ্রামের আহতরা হলেন মো. মুকুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. রাবেয়া বেগম (৩৮), তাঁর ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৩), মো. ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. এনামুল হক (২৬), মো. আব্দুল আহাদ আলীর মেয়ে মোছা. আয়শা আক্তার (৩) ও মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মো. হাসান মিয়া (৭)।
শেয়ালের হামলায় আহত ৯ জনই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পরে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের পরিদর্শন করে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আহতদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে নিলি বেগমকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং বাকি আটজনকে ৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
শেয়ালটি মারা যাওয়ার পর সেটি জলাতঙ্ক ভাইরাস বহন করছিল কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শেয়ালটির মাথা সংগ্রহ করে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেন।
নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শেয়ালটি খুঁজে বের করি। পরে তার মাথা কেটে নিই এবং বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখি। এ সময় বেলকা ইউনিয়নের ভ্যাকসিনেটর, এআই টেকনিশিয়ান ও স্থানীয় লোকজন সঙ্গে ছিলেন।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন শেয়ালটির মাথা কেটে নিয়ে আসেন। শেয়ালটির কাটা মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় রোগ গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষা করে ফলাফল আসে, শেয়ালটি জলাতঙ্ক ভাইরাস বহন করছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেয়ালের কামড়ে আহতরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর পাশাপাশি ঘটনাস্থলে গিয়ে গরু দুটিকেও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আশা করি, তাঁদের আর কোনো সমস্যা হবে না।’
কেকে/এমএস