মেলায় এক নারীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় উপজেলার এক চেয়ারম্যানসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর নাঙ্গলকোট উপজেলার পুঁজকরা ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকান, বাড়িঘর ও একটি কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সংঘর্ষের কারণে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের এক দম্পতি নাথেরপেটুয়া পুরোনো বাজার এলাকায় একটি অস্থায়ী মেলায় যান। সেখানে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে পুঁজকরা গ্রামের কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নাথেরপেটুয়া বাজার এলাকায় ওই নারীর স্বজনদের সঙ্গে নাঙ্গলকোটের পুঁজকরা গ্রামের অটোরিকশাচালক জাহাঙ্গীর ও মহসীন নামের দুই যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দুজনকে মারধর করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এর জেরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দারা জড়ো হন। পরে দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় পুঁজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফ্যাক্টরি ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের সুমনের বাড়িতেও ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও মালামাল লুটের অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হাতিমারা গ্রামের কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা।
পুঁজকরা গ্রামের আল মামুন ও কনজুমার ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপক রাকিব বলেন, প্রতিদিনের মতো আমরা অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ হাতিমারা গ্রামের প্রায় ২০০ লোক রামদা, চাপাতি, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানায় হামলা চালায়। তারা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। অফিসের প্রয়োজনীয় মালামাল ভাঙচুর ও লুট করে নিয়ে যায়।
এতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হাতিমারা গ্রামের একটি দোকানের মালিক মিলন বলেন, “আমাদের কী অপরাধ? কোনো কিছু হলেই পুঁজকরা গ্রামের লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আজও হামলা চালিয়ে দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে গেছে।”
নাথেরপেটুয়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নারীকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের লোকজনকে বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবার হাতিমারা গ্রামের লোকজন পুঁজকরা গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এরপর পুঁজকরা গ্রামের লোকজনও হাতিমারা গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা করে।
এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম বলেন, নারীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কেকে/ এমএস