শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বাসায় গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন কার্ড চাইলেন আসিফ মাহমুদ      নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্প-তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা      হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ৯১৭      জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      বিমানকর্মীর কাছ থেকে ১৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার      বলিভিয়ায় সামরিক ব্যারাকে বিস্ফোরণ, হতাহত বহু      এই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে : শফিকুর রহমান      
প্রিয় ক্যাম্পাস
কুবির আবাসিক হলে মশার উপদ্রব, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম আপডেট: ০৫.০৯.২০২৬ ৭:৪৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মশার উপদ্রব বাড়ায় নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মশা নিরোধক ওষুধ ভালোভাবে ছিটানো হচ্ছে না। 

বিশেষ করে হলের ড্রেনগুলোতে বেশি মশার জন্ম হচ্ছে। ড্রেনগুলো অপরিষ্কার ও ময়লা জমে থাকায় সেখানে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় মশার অস্বাভাবিক বিস্তারের অন্যতম কারণ হলো যত্রতত্র জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক স্থান ও আবাসিক হলের আশপাশে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় সেখানে তৈরি হয়েছে মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। বিশেষ করে আবাসিক হলগুলোর ড্রেনগুলোতে ময়লা জমে থাকার কারণে পানি চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। সেখানে পচনশীল আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার বংশবিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে, যা পুরো ক্যাম্পাসের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুন্তাসির আজিম বলেন, ‘আমাদের হলটি অন্যান্য হলের তুলনায় নিচু জায়গায় অবস্থিত। এখানে ঝোপঝাড় তুলনামূলক অনেক বেশি। হলের ড্রেনগুলো সব অপরিষ্কার, ঠিকমতো পানি চলাচল করতে পারে না। সেজন্য এখানে মশার প্রকোপও অনেক বেশি। বিশেষ করে রিডিং রুমে তো মশার জন্য পড়াশোনাই করা যায় না। নামাজের রুমেও প্রচুর মশা। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, যাতে বেশি বেশি মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহার করা হয়।’

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাতুল্লাহ বলেন, ‘হলে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, রুমের জানালা বন্ধ রাখার পরও মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ফ্যান চালু রাখলেও মশার উপদ্রব কমে না। এতে পড়াশোনাসহ দৈনন্দিন কোনো কাজই স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এসব মশার কামড়ের পর দীর্ঘক্ষণ ধরে চুলকানি অনুভূত হয়, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সেজুতি রানী বৈষ্ণব বলেন, ‘সন্ধ্যায় রুমের জানালা-দরজা না লাগালে রুমের ভেতর বসাই যায় না। মশার প্রকোপ এত বেশি যে, মশারির ভেতরেও মশা ঢুকে যায় এবং রাতে কয়েকবার উঠে মশা মারতে হয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘মশায় কামড় দিলে কিছুক্ষণের মধ্যে জায়গাটি ফুলে যায় এবং প্রচুর চুলকানি অনুভূত হয়।’

এ বিষয়ে দত্ত হলের প্রভোস্ট জনি আলম বলেন, ‘মশা নিরোধক যে ওষুধগুলো আছে, সেগুলো হল প্রশাসনের হাতে নেই। এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা দেখাশোনা করে। মশা নিরোধক স্প্রেগুলো সপ্তাহে একবার ব্যবহার করার কথা। আমরা শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এস্টেট শাখার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং সপ্তাহে দুইবার স্প্রে করার কথা বলেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখা বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।’

মশার উপদ্রব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমরা নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে একদিন (বুধবার) সকল হল ও ক্যাম্পাসে মশা নিরোধক স্প্রে করি। বৃষ্টির জন্য হয়তো আমাদের সময়সূচি মাঝে মাঝে ব্যাহত হয়।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনিও একই উত্তর দেন। তার কাছে সর্বশেষ কবে স্প্রে করা হয়েছে, তার তালিকা দেখতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটার কোনো ডকুমেন্ট আমাদের কাছে নেই। এটা আলাদা করে লিখে রাখার বিষয় নয়।’

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বর্তমানে মশার উপদ্রব একটু বেশি। সাধারণত দিনের বেলার মশার কামড়ে মশাবাহিত রোগ, যেমন ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি রোগ দেখা দেয়। মশার কামড়ের ফলে জায়গাটি ফুলে যায় এবং চুলকানি অনুভূত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন কোনো পোকামাকড় আমাদের শরীরে কামড় দেয়, তখন আমাদের অ্যালার্জি জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেজন্য চুলকায় এবং জায়গাটি ফুলে ওঠে। আমরা চাইলে বিভিন্ন লোশন ব্যবহার করতে পারি।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়   মশার উপদ্রব   স্বাস্থ্যঝুঁকি   শিক্ষার্থী  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close