বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বান্দরবান সরকারি কলেজে শিক্ষকের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বছরের পর বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি বিভাগ অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকে অবহিত করা হলেও মেলেনি সমাধান। দুর্গম এ জেলায় উচ্চশিক্ষা লাভে সরকারি কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাব্যবস্থার মান দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে।
পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ১৯৭৫ সালে বান্দরবান পৌরসভা এলাকায় প্রতিষ্ঠা হয় বান্দরবান সরকারি কলেজ, আর এটি জাতীয়করণ করা হয় ১৯৮০ সালে। সাতটি উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার প্রায় দশ হাজার শিক্ষার্থী এখন এ কলেজে অধ্যায়ন করছে।
এ কলেজে বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রী, অনার্স ও মাস্টার্স বিভাগ চালু থাকলেও বিভাগ অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় লেখাপড়ায় চরম ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক বিভাগে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে শ্রেণি কার্যক্রম।
কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মামুন বলেন, ‘কলেজে শিক্ষকের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষকের কারণে আমাদের পড়ালেখায় প্রচুর কষ্ট পেতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী মং মং মারমা বলেন, ‘কলেজে উচ্চমাধ্যমিক,ডিগ্রী এবং অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু থাকলেও শিক্ষক আরো প্রয়োজন, শিক্ষকের ঘাটতি মিটানো গেলে আরও ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।’
উচ্চমাধ্যমিক দিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে ২০০১ সালে অনার্স এবং ২০১৫ সালে চালু করা হয় মাস্টার্স কোর্স। এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪২ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন আর শুন্য রয়েছে ১৭টি। অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে নিয়মিত পাঠদানের জন্য এ সংখ্যা মোটেও যথেষ্ট নয়।
শিক্ষকদের দাবি, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে ঘটছে নানা বিড়াম্বনা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বিভাগ অনুযায়ী শুন্য পদে শিক্ষক পূরণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার জানানোর পরও
বিষয়টি কোন সুরাহা হয়নি জানিয়ে দ্রুত কলেজের শিক্ষকের চাহিদা পূরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান কলেজের অধ্যক্ষ।
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, ‘এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪২ জন শিক্ষকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন আর শুন্য রয়েছে ১৭টি পদ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম সাতটি উপজেলার পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, কেরানীহাট, দোহাজারী, বাজালিয়াসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থী এ কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য অধ্যয়ন করে যাচ্ছে। তবে শিক্ষকের ঘাটতি আমাদের শিক্ষা প্রসারে বড় বাধাঁ হয়ে দাড়িয়েছে।’
অধ্যক্ষ আরও বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়ে আমরা শুন্য পদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশিসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার আবেদন প্রেরণ করেছি, তবে এখনো শুন্য রয়েছে কলেজের অনেক শিক্ষকের পদ।’
কেকে/এআই