‘নিরাপদ হোক রক্তদান, আমার রক্তে বাঁচুক প্রাণ’— স্লোগানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তিমার উদ্যোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সংগঠনের নবীন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ এবং প্রবীণ সদস্যদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়াও বেস্ট ভলান্টিয়ারদের ক্রেস্ট এবং সর্বোচ্চ রক্তদাতাদের সার্টিফিকেট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
রক্তিমার সভাপতি সোহরাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান এবং অধ্যাপক ড. মো. আবেদ-উদ-দৌলা।
এ ছাড়া সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. মসিউর রহমানসহ রক্তিমার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মানুবর্তিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২২৫০ ক্যালোরি গ্রহণ করা প্রয়োজন। অথচ সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থী গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। হলের খাবার ও স্ট্রিট ভেন্ডরগুলোর মান শতভাগ সঠিক না হলেও, অনিয়মিত খাবার গ্রহণ ও অতিরিক্ত রাত জাগা শরীরের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারী ও পুরুষের শারীরিক গঠন ও চাহিদায় ভিন্নতা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে মাতৃত্বের কথা বিবেচনায় রেখে নারীদের শারীরিক সক্ষমতা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছর হলেও, পড়ালেখা ও অন্য ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে মানুষ নিজের একক নিয়ন্ত্রণে মূলত প্রায় ২০ বছর জীবনযাপন করার সুযোগ পায়। তাই সুস্বাস্থ্যের মাধ্যমে জীবনের এ গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কার্যকর করতে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে।’
একইসঙ্গে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে আয়োজক সংগঠনটিকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
কেকে/এআই