গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৮৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুতে কাপাসিয়ায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১১৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৭৯ জন, মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
সর্বশেষ রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ডেঙ্গুতে মারা গেছে ১৭ বছর বয়সী আজিম খান। সে কাপাসিয়া উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের আকরাম খানের ছেলে।
এদিকে প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালে বেড়েছে চাপ। বেড সংকটে অনেক রোগীকে করিডোর ও সিঁড়িতে অবস্থান করতে হচ্ছে। কারও কারও অভিযোগ, মশারি ছাড়াই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালমা আক্তার বলেন, ‘বেড না পেয়ে করিডোরে থাকতে হচ্ছে।’
আরেক রোগী আবদুস সালাম জানান, কোথাও কোথাও টাকার বিনিময়ে বেড দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় নালা ও ময়লার স্তূপে মশার বংশবৃদ্ধি হলেও মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১৮৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও আইভি ফ্লুইড ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, নিয়মিত ওষুধ ছিটানো এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম চলছে।’
কেকে/এআই