সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু : স্বাস্থ্যমন্ত্রী      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩১৪       হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি      ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য: রাষ্ট্রপতি      গণতন্ত্রের জন্য সমঝোতার রাজনীতি করতে হবে : রাষ্ট্রপতি      দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ এক লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা      
প্রিয় ক্যাম্পাস
নারীঘটিত ইস্যুতে ববির দুই ছাত্রদল নেতা মারধরের শিকার
ববি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন নির্মাণাধীন বিটাক ভবন এলাকার পাশে একটি বাড়িতে নারীঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পরিবারের বিরুদ্ধে। পরে ওই দুই নেতাকে উদ্ধারে গিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা  স্থানীয় পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন বলে পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত ছাত্রদল নেতারা হলেন— বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পিয়াস আহমেদ রিফাত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্ল্যা। অন্যদিকে স্থানীয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আহত হয়েছেন চরকাউয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য শিল্পী বেগম, তার স্বামী রহিম, ছেলে আরমান ও জামাতা রিয়াজ।

জানা যায়, রোববার রাতে ছাত্রদলের তিন নেতা পিয়াস আহমেদ রিফাত, আশরাফুল মোল্ল্যা ও রায়হান হাঁটাহাঁটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় যান। এ সময় রহিমের বাড়ির একটি কক্ষে দুই নারী ও এক যুবককে প্রবেশ করতে দেখে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা সেখানে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

ছাত্রদল নেতাদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের পূর্বপরিচিত রহিমের জামাতা রিয়াজ মোল্লা তাদের বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তারা ওই ব্যক্তিদের কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারেন বলে দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, পরে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে রহিমের জামাতা রিয়াজ ও ছেলে আরমান ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। এরপর দুই ছাত্রদল নেতাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে একটি ঘরে আটকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।

তবে তাদের সঙ্গে থাকা ছাত্রদল নেতা রায়হান ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য নেতাকর্মীকে বিষয়টি জানান। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দুই নেতাকে উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

আহত ছাত্রদল নেতা ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল মোল্ল্যা বলেন, ‘আমরা রাতে হাঁটাহাঁটির জন্য বের হলে দুইজন মেয়েকে ও একজন ছেলেকে দেখতে পাই। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করি। একপর্যায়ে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি। পরে আমাদের দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে আমাদের বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে থাকা রায়হান ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ডেকে আনে। পরে তারা এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।’

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে নারী এনে তার বাড়িতে প্রবেশ করিয়েছিলেন।

রহিম মিয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব শিক্ষার্থী ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে মেয়ে এনে ঘরে ঢুকিয়ে দেয়। আমাদের জিম্মি করে তারা ডাকাতি করতে চেয়েছিল। আমরা তাদের প্রতিহত করেছি। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তারা যাওয়ার সময় আমাদের বাড়িঘর তছনছ করেছে এবং বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। আমার স্ত্রী ও জামাই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আমি ভয়ে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছি।

ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দা ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমার বাড়ির পাশেই। চিৎকার শুনে রাতে ঘুম থেকে উঠে মারামারির ঘটনা দেখি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এসে বাড়িঘর ভাঙচুর ও তছনছ করেছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ব্যক্তি ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে বিভিন্ন সময় পরীক্ষার ফরম পূরণের নামে চাঁদা দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কাউকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে ঘটনাটির সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের বিষয় জড়িত থাকার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও উভয় পক্ষই বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘মোবাইল ফোনে তথ্য পেয়ে আমাদের টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহত একজনকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ মামলা করেনি। মামলা হলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  নারীঘটিত   ইস্যু   ছাত্রদল নেতা   মারধরের শিকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close