রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● দখলবাজিতে ব্যস্ত নেতারা, ভাবমূর্তি সংকটে সরকার      ● জাতিসংঘ সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      ● এক হাজার ৪৯৮ পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে জাতীয় মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে : রাষ্ট্রপতি      ● হাম উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু      ● ডেঙ্গুতে আরও আটজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৪৩২      ● আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● বনানীর বহুতল ভবনে আগুন      
প্রিয় ক্যাম্পাস
অভিষেক হলো আইটিইটির ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের
বুটেক্স প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাজীবী সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি), বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ১৫তম কেন্দ্রীয় পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে সন্ধ্যা ৭টায় অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী শোয়েব বাশরী হাবলু, রাজউক চেয়ারম্যান ও আইইবি সভাপতি প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম সামসু উদ্দীন খান।

এছাড়া আইটিইটির কেন্দ্রীয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের টেক্সটাইল প্রকৌশলী, সংগঠনের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতি এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অতিথিরা আসন গ্রহণ করেন। পরে প্রধান অতিথি মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের কাছ থেকে আইটিইটির উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা শুভেচ্ছা ও সম্মাননা গ্রহণ করেন। এরপর আইটিইটির নবনির্বাচিত সদস্যরা শুভেচ্ছা ও সম্মাননা নেন। পরে অতিথি ও সংগঠনের নেতারা পর্যায়ক্রমে বক্তব্য দেন। সবশেষে রাতের খাবার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘটে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শিল্পখাত, বিশেষ করে পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিল্পায়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। সরকার, শিল্পমালিক ও প্রকৌশলীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এ অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করা সম্ভব।”

সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম বলেন, “আইটিইটি সত্যিকার অর্থেই যেন এই কার্যনির্বাহী কমিটি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থ, দলীয়করণের ঊর্ধ্বে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কার্যকরী কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি বলব, সময় এসেছে সত্য প্রমাণ করার—‘দল-মত যার যার, আইটিইটি আমাদের সবার।’ আইটিইটি এমন হবে, যেখানে এখানকার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মিনিংফুল মেম্বারশিপ নিশ্চিত করা যাবে। এই আইটিইটিতে নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে তাদের সৎ, নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের সঙ্গে যারা নির্বাচিত হয়নি, তাদেরও শুধু গঠনমূলক আলোচনা নয়, গঠনমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

এছাড়া তিনি টেক্সটাইল গবেষণার জন্য আলাদা তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেন, যেখান থেকে জ্বালানি দক্ষতা, অটোমেশন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও টেকসই উৎপাদনে গবেষণায় সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। জাতীয় টেক্সটাইল ইনোভেশন অ্যান্ড এক্সিলেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং নীতিনির্ধারণে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য স্বতন্ত্র বিসিএস ক্যাডার চালুর বিষয়েও সরকারের প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, “বাংলাদেশের পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানিতে বড় অবদান রাখছে। বিদেশে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা গেলে দূতাবাসগুলোকে তাঁদের সহযোগিতা করতে হবে। একজন রাষ্ট্রদূত শুধু সরকারি প্রতিনিধি নন, দেশের একজন ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ও।”

পাশাপাশি কারখানায় মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে আইটিইটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন বলেন, “আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কমার্সিয়াল উইংয়ে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়া হোক। বিদেশের মাটিতে একজন টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ থাকলে ক্রেতাদের সঙ্গে টেকনিক্যাল বোঝাপড়া, চাহিদা অনুযায়ী গার্মেন্টস প্রোডাকশন নিশ্চিত করা এবং দেশের কারখানার সঙ্গে কার্যকর লিয়াজোঁ রক্ষা করা অনেক সহজ হবে। গত ২৬ জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনারা আমার পুরো প্যানেলকে বিজয়ী করেছেন এবং আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত করে যে ঋণে আবদ্ধ করেছেন, তার জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির ২৭ জন দক্ষ ও পরীক্ষিত কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আপনাদের একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, কার্যকর ও সদস্যবান্ধব নতুন আইটিইটি উপহার দিতে পারব।”

বক্তারা দেশের টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

প্রিয় ক্যাম্পাস- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close