কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হলেও সেখান থেকে বের হওয়ার পর আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বসাকে কেন্দ্র করে আইসিটি, প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও ঝামেলার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিন মজুমদার ও সালমান পাটোয়ারীকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রক্টর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান হয়নি।
পরে প্রক্টর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার পর ফের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন আইসিটি বিভাগের তাওহিদুল ইসলাম ও রোদ্র মুহাম্মাদ শহিদুল্লাহ, অর্থনীতি বিভাগের তোফায়েল মাহমুদ নিবির এবং ফাইন্যান্স বিভাগের এহসানুল হক। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়।
কুবি মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, ‘মারামারিতে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, সকালে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও আবার ক্যাম্পাস গেটে এবং দত্ত হলে গিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সাংবাদিকদের ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে যারা হামলা করেছে, তাদের শনাক্ত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেকে/এআই