মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ‘আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’—মন্তব্য ঘিরে আপিল বিভাগে যা ঘটল      ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ৯ জনের      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৯৯      প্রাথমিকের ১৪৩৮৪ সহকারী শিক্ষকের যোগদান ১ অক্টোবর      ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী      তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে : পানিসম্পদমন্ত্রী      স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ      
দেশজুড়ে
তিন মাসেই মুরাদনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসানের রেকর্ড দুর্নীতি
মহিউদ্দিন আকাশ, ব্যুরো চিফ, কুমিল্লা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ পিএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ৯:১১ পিএম
মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দলিল প্রতি মোটা অংকের ঘুষ নেয়াসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাজনা খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও দলিল প্রতি মোটা অংকের উৎকোচ না দিলে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল স্বাক্ষর করছেন না বলে খোদ দলিল লেখক ও দাতা গ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন। কর্মস্থলে যোগদানের মাত্র তিন মাসেই দুর্নীতিতে রেকর্ড গড়েছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান। 

এ নিয়ে অফিস চত্বরে হর-হামেশা উচ্চবাচ্য ও হট্টোগোলের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে দ্বিগুণ উৎকোচের বিনিময়ে জাল কাগজপত্র দিয়েই দলিল পাড় করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় যেসব গ্রহীতা উৎকোচ দিতে অনিচ্ছুক তারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আর যারা বাধ্য হয়ে উৎকোচ দিচ্ছেন তারা সীমাহীন ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

মেহেদী হাসানের দুর্নীতি ও হুমকির মুখে জিম্মি দলিল লিখকরা। লাইসেন্স বাতিল করে দিবেন- এ ভয়ে মিডিয়ায় বক্তব্য দিলেও নাম গোপন রাখার অনুরোধ করেন তারা। 

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দলিল লিখক পেশায় কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক (কল রেকর্ড রয়েছে) দলিল লিখক বলেন, ‘মেহেদী হাসান আসার পর থেকেই প্রতি দলিলে দুই হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এখান থেকে সমিতির নামে ২০০ টাকা (যদিও সমিতির কমিটি নেই) আর  দুই হাজার টাকা সাব-রেজিস্ট্রার নেন। আর বন্টননামার ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রারের সাথেই কন্ট্রাক করতে হয়। তিনি কারো থেকে ৫০০০০-৬০০০০ আবার কারো থেকে ১ লাখ বা তার বেশিও নেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক দলিল লিখক জানান, ক’-এর জায়গায় ব হলেই নাম সংশোধনের নামে গুণতে হয় ২০০০০- ৫০০০০ টাকা। আগের সাব-রেজিস্ট্রারদের তুলনায় তিনি দুর্নীতিতে রেকর্ড গড়েছেন।’

সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে যারা সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিল প্রতি নির্ধারিত উৎকোচ জমা দিচ্ছেন তাদের দলিল এজলাসে দাখিল করা হচ্ছে। আর যারা উৎকোচ দিচ্ছেন না তাদের কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ফেরত দেয়া হচ্ছে। গত কয়েক দিন পূর্বে মুরাদনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে পাঁচ শতক জমি ক্রয়ের দলিল সম্পাদন করেন সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের মৃত মবিন মাস্টারের ছেলে মো. মাহমুদ। তার দলিল লেখক লাইসেন্সধারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, তবে রেকর্ড রয়েছে)। ৬ লাখ টাকা মূল্যের এই দলিলের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারকে উৎকোচ না দেওয়ায় এক সপ্তাহ হয়রানির শিকারের পর ২০ হাজার টাকা দিয়ে দলিল করতে হয়। এর বাইরেও প্রতি দলিলে অফিস খরচের নামে অবৈধভাবে আড়াই হাজার টাকা উৎকোচ নেন বলে জানান এই ভুক্তভোগী। 

মো.  মাহমুদ বলেন, ‘আমরা এলাকার পরিচিত মুখ ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত অথচ আমাদের থেকেও সে প্রতি দলিলে অফিস খরচের নামে অবৈধভাবে আড়াই হাজার টাকা উৎকোচ নেন এবং নামে ভুলের অযুহাত দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা নেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা?’

তিনি দামি গাড়ি নিয়ে প্রতিদিন সকালে আসেন আর গাড়িতে টাকার বস্তা নিয়ে যান বলে মুরাদনগরের সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেহেদী হাসান বলেন, ‘অভিযোগ তো অনেক-ই থাকে, অফিসে আসেন কথা বলি। তবে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।’

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  মুরাদনগর সাব-রেজিস্ট্রার   ঘুষের অভিযোগ   দলিল অফিস   মেহেদী হাসান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close