অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত সব পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে বসতি সম্প্রসারণে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। লন্ডনের এ উদ্যোগের প্রতি একাত্মতা জানিয়েছে আরও ১১টি দেশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, “অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোর সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।” বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্য ব্রিটিশ বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে দখলদারিত্বকে সমর্থন করা হচ্ছে—এমন অবস্থান যুক্তরাজ্যের জনগণের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে সব ধরনের পণ্য আমদানি বন্ধ করা হবে। বসতি সম্প্রসারণে নির্মাণ, অবকাঠামো, অর্থায়ন ও আবাসন খাতে কাজ করা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে এসব বসতিতে সম্পত্তি বিক্রির বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও উসকানির সঙ্গে জড়িত উগ্রপন্থি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। এ ছাড়া দখলদারিত্বে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবদান’ রাখে—এমন অস্ত্র ও অন্যান্য পণ্যের নতুন রপ্তানি লাইসেন্সও অনুমোদন করবে না যুক্তরাজ্য। দেশটি এরই মধ্যে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩০টির বেশি অস্ত্র লাইসেন্স স্থগিত করেছে।
তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না। মিলিব্যান্ডও স্পষ্ট করেছেন, পদক্ষেপগুলো ইসরায়েলি জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং ইসরায়েল সরকারের নীতির বিরুদ্ধে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগের পর ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেনসহ মোট ১২ দেশ অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে জাতীয় বা ইউরোপীয় পর্যায়ে বিধিনিষেধ আরোপের অভিপ্রায় জানিয়েছে। দেশগুলো বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ এবং কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক ও কর্মকর্তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। যদিও বসতিগুলো থেকে যুক্তরাজ্যের আমদানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম, তবু সিদ্ধান্তটি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে লন্ডনের অবস্থানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স/আল-জাজিরা
কেকে/সাশ