হাতে পতাকা, স্লোগান দিয়ে এবং গোল হয়ে হেঁটে বিক্ষোভ করল একঝাঁক রোবট। তাদের দাবি, এআই প্রযুক্তির জন্য নিয়ম-নীতি চালু করা হোক।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে ডেমোক্র্যাটিজম নামের সংগঠনের আয়োজনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভে দেশটির ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হয় প্রায় ৩০টি রোবট। সংগঠনটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্য হলো এআই এবং রোবটকরণ কীভাবে কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করা।
বিক্ষোভে লাউডস্পিকারে বাজানো হয় বিভিন্ন স্লোগান। এর মধ্যে ছিল— ‘কর্মসংস্থান রক্ষা করো’; ‘নিয়ম চাই’ এবং ‘দেরি না করে নিয়ন্ত্রণ চালু করো’। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রোবটদের মধ্যে ছিল দুই পায়ে হাঁটা মানবাকৃতির রোবট থেকে শুরু করে কুকুরের মতো দেখতে চার পায়ের রোবটও।
এজিবট এ৩ নামের এআই চালিত মানবাকৃতির রোবট এএফপিকে বলে, ‘এখানে যেসব রোবট আছে, তারা দেখাতে চাইছে যে এ প্রযুক্তি এখন বাস্তবতা।’
সংগঠনের আয়োজক গ্রেগোর্জ কুলিস এএফপিকে বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে বলতে চাই, মানবাকৃতির রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মানুষের বুদ্ধিভিত্তিক কাজ প্রতিস্থাপিত হওয়ার যে সম্ভাবনা, সেই বিষয়টি নিয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন প্রতিক্রিয়া না দেখালে শিগগিরই বড় সমস্যায় পড়তে পারি।’
শ্রমিকদের সুরক্ষায় নিয়ম ও আইনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
কুলিস জানান, বিক্ষোভে আসা অনেকের নজর কাড়ার পাশাপাশি রোবট ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য ছিল এদের বর্তমান সক্ষমতা দেখানো। এতে পরিস্থিতির জরুরি অবস্থাও স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘এ রোবটগুলো এখনই নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারে। এরা এখনই ‘বিক্ষোভ’ করতে পারছে।’
বিক্ষোভস্থলে যান পোল্যান্ডের ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিশতফ গাভকোভস্কি। সেখানে কুলিসের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণহীন এআই মডেল, যা মানবাকৃতির রোবটে বসানো হচ্ছে এবং রোবটকরণ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যা আরও উন্নত হতে থাকবে, তা একটি বড় সমস্যা।’
কুলিস বর্তমানে একটি রোবোটিকস কোম্পানির সিআইও এবং একটি নিয়োগ সংস্থার সিইও হিসেবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি পরিবার, শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয়ের শ্রমবাজার কাউন্সিলে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘দ্রুত ও গতিশীল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে সমাজকে জানানো শুরু করার দায়িত্ব আমরা অনুভব করি। ব্যক্তিগতভাবে এ পরিবর্তন আমাদের ভয়ও দেখায়।’
পোল্যান্ডের রক্ষণশীল-জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি জুলাই মাসে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এ আইন প্রস্তাব করেছিল ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই আইন বাস্তবায়ন করা হয়।
এ আইনের মাধ্যমে একটি জাতীয় কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এ কর্তৃপক্ষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান নিয়ম কার্যকর করতে পারবে। এ নিয়মগুলো আগে থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ছিল।
কেকে/এআই