আইফোনের দুই দশকের ইতিহাসে প্রথম ভাঁজ করা ফোন ‘ডুও’ উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দ্বিতীয় সপ্তাহেই এ বড় চমক নিয়ে হাজির হলেন জন টার্নাস। তবে প্রযুক্তির অভাবনীয় এ নতুনত্বের পাশাপাশি আইফোনটির চড়া দামও গ্রাহকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়েছে প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে আসার পর নকশায় এটিই অ্যাপলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি।
বইয়ের মতোই সহজে ভাঁজ করা যায় অ্যাপলের নতুন ‘আইফোন ডুও’। এটি পুরোপুরি খুললে রূপ নেয় একটি ছোট আইপ্যাডে, আর ভাঁজ করে রাখলে দেখায় কিছুটা চওড়া আইফোনের মতো।
অ্যাপলের সিইও জন টার্নাসের মতে, ফোনটির ডিজাইন মূলত আইপ্যাড থেকে অনুপ্রাণিত। এর ভাঁজ করার পুরো অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘স্বচ্ছন্দ ও স্বাভাবিক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রযুক্তির অভাবনীয় চমক থাকলেও আইফোন ডুওর চড়া দাম চোখ কপালে তোলার মতো। যুক্তরাষ্ট্রে ফোনটির প্রারম্ভিক মূল্য ধরা হয়েছে ১৯৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই লাখ টাকার কাছাকাছি। আর সর্বোচ্চ কনফিগারেশনের সংস্করণের দাম রাখা হয়েছে ৩২০০ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এ আইফোন উন্মোচনের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইটের প্রধান বিশ্লেষক বেন উডের মতে, নতুন সিইও-এর মেয়াদকালের শুরুতেই অ্যাপল সম্ভবত বহু প্রতীক্ষিত এ ফ্ল্যাগশিপ পণ্যটি বাজারে এনে নিজেদের বড় ধরনের উপস্থিতি জাহির করতে চেয়েছে।
তবে এতটা চড়া দামের একটি ভাঁজযোগ্য ফোন বাজারে কতটা জনপ্রিয়তা পাবে, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। ফরেস্টারের বিশ্লেষক দীপাঞ্জন চ্যাটার্জির মতে, উচ্চমূল্যের কারণে এটি অ্যাপলের ‘ভিশন প্রো’-র মতো সীমিত ক্রেতাভিত্তিক পণ্যে পরিণত হতে পারে।
তাছাড়া, বর্তমানে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিযোগীদের নানা মডেল থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বাজারের মাত্র ২ শতাংশের মতো দখল করতে পেরেছে ভাঁজযোগ্য ফোন।
অ্যাপল উন্মোচন করেছে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-ও। পাশাপাশি নতুন এআই সুবিধার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সিরি এআই এখন আইফোনের মেসেজ, ই-মেইলসহ বিভিন্ন তথ্য খুঁজে ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করতে পারবে।
টার্নাসের দাবি, এসব এআই সুবিধায় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বজায় থাকবে। অনেক কাজ সরাসরি ডিভাইসেই সম্পন্ন হবে, ফলে তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকবে।
সূত্র : বিবিসি
কেকে/এআই