উদ্ভাবন, গবেষণা, শিল্প ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং উদ্ভাবনকে বাজার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকায় শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শেরেবাংলা নগরের নভোথিয়েটারে প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
‘ইনোভেশন ইকোসিস্টেম টোওয়ার্ডস ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ নিজের উদ্ভাবিত ট্রাইকোডার্মাভিত্তিক বায়োফানজিসাইড (জৈব ছত্রাকনাশক) উপস্থাপন করেছেন দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের পরিচালক ও প্লান্ট প্যাথলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মহিদুল হাসান।
অধ্যাপক ড. মো. মহিদুল হাসানের উদ্ভাবিত এ জৈব ছত্রাকনাশক মাটিতে বসবাসকারী ক্ষতিকর জীবাণু দমন করে মাটির গুণাগুণ বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি গাছের পাতা, কাণ্ড, ফলসহ বিভিন্ন অংশে আক্রমণকারী ছত্রাকের বিরুদ্ধেও এটি কার্যকর। এটি গাছের বৃদ্ধি, ফলের সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
অধ্যাপক ড. মো. মহিদুল হাসান বলেন, “নিয়ম মেনে টমেটো গাছে এ জৈব ছত্রাকনাশক প্রয়োগের পর একটি গাছে ৮০ থেকে ৯০টি পর্যন্ত টমেটো ধরেছে। একই সঙ্গে গাছটিতে অনেক শাখা-প্রশাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার না করা গাছে ৪০ থেকে ৫০টি টমেটো ধরেছে।”
গবেষক আরও বলেন, “এ জৈব ছত্রাকনাশকে দুই ধরনের ট্রাইকোডার্মা প্রজাতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাজারে থাকা অন্যান্য ছত্রাকনাশকের তুলনায় এটিকে ভিন্নতা দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “ট্রাইকোডার্মার জন্য নতুন একটি ক্যারিয়ার ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সয়েল কিং’। এটি মূলত মাটিতে ও ড্রেঞ্চিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, ট্যালকম পাউডারভিত্তিক ট্রাইকোডার্মার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্রপ কিং’, যা স্প্রে করার জন্য ব্যবহার করা হয়।”
এ ছাড়া এ ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার করে জৈব সারও উৎপাদন করা হচ্ছে। এতে ট্রাইকোডার্মার পাশাপাশি গোবর, মুরগির বিষ্ঠা, কাঠের গুঁড়া, মোলাসিসসহ মোট নয়টি উপাদান ব্যবহার করা হয়। এ জৈব সার মাটির রোগ দমনের পাশাপাশি মাটির গুণাগুণও অনেকাংশে বৃদ্ধি করে।
উদ্ভাবকের তৈরি জৈব ছত্রাকনাশক ইতোমধ্যে কৃষকেরা মাঠপর্যায়ে ব্যবহার করছেন। এতে তারা দ্বিগুণ ফলন পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তবে এটি ব্যাপকভাবে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তারা।
আয়োজকেরা জানান, মেলার মূল লক্ষ্য উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পখাত, বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক, বিশ্ববিদ্যালয় ও উন্নয়ন সহযোগীদের একটি সমন্বিত জাতীয় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।
কেকে/সাশ