জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ বলেছেন, ‘দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজে যে পলিসি গ্যাপ রয়েছে, তা দূর করতে হবে। এ গ্যাপ পূরণ করা গেলে দেশে কর্মসংস্থানমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-র প্লিনারি সেশনে তিনি এ সব কথা বলেন।
‘ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত বাংলাদেশের জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত : উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির মেরুদণ্ড নির্মাণ’ শীর্ষক এ সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন। সকালে এ ফেয়ারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে এপ্রেন্টিসশিপ ও ইন্টার্নশিপের মধ্যে বিদ্যমান গ্যাপ দূর করে একটি সমন্বিত এসটিইএম ক্যারিয়ার গাইডেন্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ইন্ডাস্ট্রি-ফিট সার্টিফিকেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের একটি অংশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা হলে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির পাশাপাশি সময়োপযোগী গবেষণাও জোরদার হবে।’
এসটিইএম শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘এসটিইএম-এ আমরা নারীদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত মাত্রায় পাচ্ছি না। এ শূন্যতা পূরণে নারী শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় উৎসাহ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাপকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে সাত লাখ গ্র্যাজুয়েট তৈরি হয়। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো থেকে বের হন। ফলে দক্ষ ও কর্মসংস্থানমুখী গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘প্যারাডাইম শিফট’ প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় বর্তমানে একটি জাতীয় পর্যায়ের জরিপ পরিচালিত হচ্ছে।’
ওই জরিপের সুপারিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, ‘সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি ও নীতিমালার আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে তার সিলেবাস ও কর্মপদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করেছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও একইভাবে এগিয়ে এলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় প্লিনারি সেশনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. ম তামিমসহ ইউনিসেফ, ইউএনডিপি ও গ্রামীণফোনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
‘ইনোভেশন টু মার্টেক’— প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত তিন দিনের ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১০টি উদ্ভাবন নিয়ে অংশ নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এবং অধিভুক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা এ সব উদ্ভাবন নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করছেন।
মেলায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত স্টল নম্বর ১১ থেকে ১৫। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে। স্টলে উপস্থিত ছিলেন স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ-এর চেয়ারম্যান ড. শেখ মুজাহিদুল ইসলাম, আইএসএল-এর পরিচালক ড. আবুদ্দারদা, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. আওলাদ হোসেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন প্রমুখ।
কেকে/এআই