গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কয়েলের আগুনে এক কৃষকের গোয়ালঘর পুড়ে দুটি গরু মারা গেছে। আগুনে আরও তিনটি গরু আহত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঙ্গুর মিয়া (৩৫) ওই গ্রামের মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো রাতে মশা তাড়াতে গোয়ালঘরে কয়েল জ্বালিয়ে রাখা হয়েছিল। একপর্যায়ে কয়েলের আগুন থেকে গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত ১টার দিকে আগুনের শব্দে বাড়ির লোকজনের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় আঙ্গুর মিয়ার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা একত্র হয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণে আসে।
তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। আগুনে দুটি গরু পুড়ে মারা যায়। আরও তিনটি গরু আংশিক পুড়ে আহত হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়ালঘরটিও পুড়ে যায়। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।
প্রতিবেশী সাজু মিয়া বলেন, “রাতে হঠাৎ আগুনের শব্দ ও চিৎকার শুনে আমরা ছুটে আসি। এসে দেখি গোয়ালঘরে আগুন জ্বলছে। সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এরই মধ্যে দুটি গরু পুড়ে যায়। আরও তিনটি গরু আগুনে পুড়ে আহত হয়েছে। পরিবারটির সহায়-সম্বল বলতে যা ছিল, আগুনে তার অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে।”
কৃষক আঙ্গুর মিয়া বলেন, “আগুনের বিকট শব্দে আমার ঘুম ভাঙে। ঘুম থেকে উঠে দেখি গোয়ালঘরে আগুন জ্বলছে। স্থানীয়রা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আমার দুটি গরু বাঁচাতে পারিনি। আরও তিনটি গরু পুড়ে আহত হয়েছে। গরুগুলো ছিল সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সম্বল। আগুনে সব হারিয়ে এখন আমি অসহায়।”
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়েছি। বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”
কেকে/সাশ