সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক চাই, তবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: স্পিকার      ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে মামলার রায় মঙ্গলবার      ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজডুবিতে এখনও নিখোঁজ ১২৯, উদ্ধারে জোর তৎপরতা      আসিফ মাহমুদের নথি দুদকে, যাচাই হবে নিয়োগ-বদলি      আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর      ঢাকা উত্তরে আসিফ ও দক্ষিণে পাটওয়ারীকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী ঘোষণা      ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৫৬১      
দেশজুড়ে
দারিদ্র্যের দেয়াল ভেঙে কলেজে পড়তে চায় দৃষ্টি, বিত্তবানদের সহায়তা কামনা
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
মেধাবী কিশোরী দৃষ্টি ছেত্রী। ছবি : প্রতিবেদক

মেধাবী কিশোরী দৃষ্টি ছেত্রী। ছবি : প্রতিবেদক

বাবার আদর কেমন হয়, তা বোঝার আগেই মাথার ওপর থেকে ছায়া সরে গিয়েছিল মাত্র চার বছর বয়সে। এরপর কিছুদিনের মধ্যে মা নমিতা রানীও অন্য সংসারে চলে যান। মা থেকেও নেই, বাবা তো নেই-ই। সেই চার বছরের অবুঝ শিশুকাল থেকে নিয়তির সাথে যুদ্ধ করে বেড়ে উঠেছে দৃষ্টি ছেত্রী। আজ সেই চার বছরের খুকি এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে ভর্তির স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু যে হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই হাত এখন হতাশার ছায়ায় ঢেকে গেছে। দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে আটকে যেতে বসেছে এক মেধাবী কিশোরীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নম্বর আশিদ্রোন ইউনিয়নের হোসনাবাদ চা বাগানের একটি জরাজীর্ণ ঘরে বাস দৃষ্টির। দৃষ্টির বাবা ভরত বাহাদুর ছেত্রী জীবদ্দশায় ছিলেন সিকিউরিটি সুপারভাইজার। আর্থিক প্রাচুর্য না থাকলেও হাসি-আনন্দে ভরা একটি সুন্দর সাজানো সংসার ছিল তাদের। কিন্তু নিয়তির এক নিষ্ঠুর পরিহাসে সব তছনছ হয়ে যায়, অকালে প্রাণ হারান বাবা। কিছুদিন পর মা অন্যত্র পাড়ি জমালে দৃষ্টির ঠাঁই হয় পিসি (ফুফু) অকাল বিধবা নির্মলা দেবীর কোলে।

নিজেকে নিঃশ্ব করে পরম স্নেহে ভাইঝিকে আগলে রেখেছেন নির্মলা দেবী। চা বাগানের অফিসে ক্লার্কের কাজ করে সপ্তাহে মাত্র ১ হাজার টাকা (মাসে চার হাজার টাকা) পান। এই সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে অসম্ভব, সেখানে নিজের জটিল হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালাতে গিয়ে আজ পুরোপুরি ঋণগ্রস্ত ও নিঃস্ব তিনি। মানুষের সহযোগিতা আর ধারের টাকায় কিছুদিন আগে নির্মলা দেবীর হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ঘরে এখন প্রতিদিনের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা।

এমন চরম সীমাহীন অভাবের মধ্যেও থেমে থাকেনি দৃষ্টি। এ বছর মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করেছে সে। কিন্তু ভালো ফলাফলের আনন্দ বেশিক্ষণ থাকেনি। চোখের সামনে এখন একটাই প্রশ্ন—উৎরে যাওয়া এ বাধা কি তবে শেষ বাধা নয়? উচ্চশিক্ষা যেখানে একটি বিত্তবান পরিবারের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা, সেখানে দৃষ্টির জন্য তা যেন এক আকাশসম বিলাসিতা। তবুও দৃষ্টি দমে যেতে চায় না; পড়াশোনা শেষ করে সে সমাজের জন্য, মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চায়।

বুকভরা আশা আর চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের দিকে দৃষ্টি বাড়িয়ে দিয়েছে এই পিতৃহীন কিশোরী। একটি পরিবারের একটু সহমর্মিতা, সমাজের বিত্তবানদের সামান্য একটু সুদৃষ্টিই পারে দৃষ্টির পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে। আমাদের সামান্য সাহায্যে প্রস্ফুটিত হতে পারে একটি মেধা, বেঁচে যেতে পারে একটি আলোর প্রদীপ।

দৃষ্টি ছেত্রীর লেখাপড়ার স্বপ্ন পূরণে সরাসরি সহযোগিতা করতে পারেন তার পিসি নির্মলা দেবীর সাথে। বিকাশ নম্বর–০১৭৪৮-৫১১০২৭ (নির্মলা দেবী)।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close