পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় পৃথক অভিযানে অবৈধভাবে পরিবহন ও মজুদ করা ৫৮ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তিন ভ্যানচালক ও এক সার ব্যবসায়ীকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিরনইহাট ইউনিয়ন থেকে তিনটি ভ্যানে করে রাসায়নিক সার শালবাহান হাটে নেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় লোকজন ভ্যান তিনটি আটক করে বিষয়টি ইউএনওকে জানান।
খবর পেয়ে ইউএনও মো. আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন ও তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। পরে তিনটি ভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ৩৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়।
আটক তিন ভ্যানচালক হলেন—নারায়ণজোত গ্রামের মৃত জকিম উদ্দিনের ছেলে মো. আক্তারুল (৪০), ফুটকিবাড়ী গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. সাহেদুল (৩০) এবং নারায়ণগছ গ্রামের মৃত জহর আলীর ছেলে মো. ছানোয়ার হোসেন (৪০)।
সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী তিন ভ্যানচালককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ঘটনায় সার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রেশমা ট্রেডার্স, তিরনইহাটের ম্যানেজার শাকিল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার ৪৫ হাজার টাকা ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ভ্যানচালক ছানোয়ার হোসেন জানান, তিরনইহাট এলাকার রিপনের বাড়ি থেকে সারগুলো তুলে শালবাহান হাটের ধানবাজার এলাকার হারুনের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রশাসন জানতে পারে, হারুন মুদি দোকানের পাশাপাশি একটি চা-বাগানের সঙ্গে যুক্ত।
এরপর একই রাতে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে আরও একটি অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তিরনইহাট ইউনিয়নের মানিক ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালান। সেখানে ২৩ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৪ বস্তা পটাশ, ১১ বস্তা বিআরবি ডাব ও ৮ বস্তা টিএসপি ছিল।
তবে অভিযানের সময় মানিক ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় কাউকে আটক বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বকশিপাড়া গ্রামের মো. নাঈম ও নাজমুলের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়।
দুটি অভিযানে জব্দ করা মোট ৫৮ বস্তা সার বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে।
ইউএনও মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, “অবৈধভাবে সার পরিবহন ও মজুদের খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালাই। এ ঘটনায় দায়ীদের জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ সার পরবর্তী সময়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
কেকে/সাশ