রসায়নের পর্যায় সারণি, মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ও রাসায়নিক সংকেত সহজে মনে রাখার অভিনব পদ্ধতি নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী রাকিব আহমাদের লেখা ‘দ্য পার্ক মডেল’ বই প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের রসায়ন শেখাকে সহজ, আনন্দদায়ক ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে লেখা বইটি ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম অনলাইন বই বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম রকমারিতেও যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বইটির বিষয়বস্তু পৌঁছে দিতে শিগগিরই এর ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘দ্য পার্ক মডেল’ বইটিতে ‘পার্ক মডেল’-র মাধ্যমে পর্যায় সারণির মৌলগুলোর নাম, রাসায়নিক সংকেত ও পারমাণবিক সংখ্যা সহজে মনে রাখার কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি পারমাণবিক সংখ্যা দ্রুত নির্ণয়ের অভিনব পদ্ধতি এবং ছন্দ, সূত্র ও বিভিন্ন স্মরণ-কৌশল ব্যবহার করে মৌলগুলোর তথ্য সহজে আয়ত্ত করার কৌশলও উপস্থাপন করা হয়েছে।
বইটির প্রত্যয়নপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কায়সার আহমেদ রকি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি ‘পার্ক মডেল’-কে পর্যায় সারণি ও মৌলসমূহের পারমাণবিক সংখ্যা সহজে নির্ণয় ও মনে রাখার একটি নতুন ও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, বইটিতে উপস্থাপিত বিভিন্ন ধারণা ও কৌশল শিক্ষার্থীদের পর্যায় সারণির মৌলিক বিষয়গুলো সহজে বুঝতে এবং দীর্ঘদিন মনে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
প্রত্যয়নপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী এবং উচ্চশিক্ষায় রসায়ন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বইটি সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি শিক্ষার্থীদের রসায়নের প্রতি আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়ক হবে।
বইটির লেখক রাকিব আহমাদ জানান, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ‘পার্ক মডেল’ নিয়ে তার চিন্তার সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে চিন্তা, সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে পদ্ধতিটি ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায়। প্রায় পাঁচ বছরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার পর ২০১৯ সালের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে বইটির মূল রূপ সম্পন্ন করেন তিনি। তবে বিভিন্ন বাস্তব ও প্রকাশনা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বইটি প্রকাশিত হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। অবশেষে ২০২৬ সালে বইটি প্রকাশের মুখ দেখে।
এ ছাড়া তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় রসায়ন তার অন্যতম শক্তিশালী বিষয় ছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পর্যায় সারণি ও মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা সহজে শেখার পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। তার বিশ্বাস, এইচএসসি পর্যায়ের পড়াশোনা, এইচএসসি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এবং রসায়ন-সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কোর্সে বইটি শিক্ষার্থীদের সহায়ক হতে পারে। এ বইয়ের মাধ্যমে যদি একজন শিক্ষার্থীও রসায়নের ভয় কাটিয়ে বিষয়টিকে সহজভাবে বুঝতে ও ভালোবাসতে শেখে, তাহলেই কেবল আমার এ পরিশ্রম সার্থক হবে।
তিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগে বিএসসি (সেশন ২০১৯-২০) সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগে এমএসসিতে (সেশন ২০২৩-২৪) অধ্যয়নরত আছেন।
বর্তমানে লেখক একটি স্টার্টআপ নিয়েও কাজ করছেন, যার সঙ্গে ‘দ্য পার্ক মডেল’-এর রয়েছে চমকপ্রদ এক সাদৃশ্য। বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও লেখকের ভাষ্যে, এ সাদৃশ্যটি বাস্তব।
বর্তমানে রকমারিতে বইটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের কাছে ‘দ্য পার্ক মডেল’ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। লেখকের প্রত্যাশা, পর্যায় সারণি ও মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা শেখার প্রচলিত মুখস্থনির্ভর পদ্ধতির পাশাপাশি ‘পার্ক মডেল’ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহজ ও কার্যকর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে কাজে আসবে।
কেকে/এআই