রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● এবার বাড়ল অটোগ্যাসের দাম      ● প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় হবে মাস্টারপ্ল্যান : প্রধানমন্ত্রী      ● হাম উপসর্গে আরও তিন মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১১২৫      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ছয় মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২৬২      ● এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম      ● গণতন্ত্র নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে তৈরি হয় : রাষ্ট্রপতি      ● সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩, মোটরসাইকেলেই ১৩৯      
দেশজুড়ে
পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে বহাল তবিয়তে ১৫টিরও বেশি ইটভাটা
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরিবেশ আইন তোয়াক্কা না করেই গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তর। অভিযোগ উঠেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করেই বহাল তবিয়তে পরিচালিত হচ্ছে এসব অবৈধ ইটভাটা। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর পাহাড়ের মাটি, বনের কাঠ পুড়িয়ে চললেও অদৃশ্য কারণে বন্ধ হচ্ছে না এদের কার্যক্রম।

​সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফাইতং এলাকায় পরিচালিত ৪২টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় ২৬ লাখ টাকা এবং অন্য একটিতে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও বাকি মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে শুনানির অপেক্ষায় আটকে রয়েছে। নতুন করে আরও পাঁচটি ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকলেও জরিমানা কিংবা কঠোর শাস্তির আওতায় আসছেনা কোনো মালিকপক্ষ।

​সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা গেছে ফাইতং এলাকায়। সেখানে মোট ১৪টি জিকজ্যাক ইটভাটায় কয়লা ব্যবহার করা হলেও উপজেলার লাকরির বাকি ইটভাটাগুলোতে অবাধে পাহাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। পরিবেশ আইনের প্রয়োগ নিশ্চিতে প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কার্যকর কোনো চিঠি পর্যন্ত ইস্যু করা হয়নি।
 
​পরিবেশ ধ্বংসের এ মহোৎসবে জড়িত থাকা স্থানীয় বেশ কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে নিয়মিত বিশাল পাহাড় কেটে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইট পুড়িয়ে আসছে ​জাহাঙ্গীর আলমের এমএইচবি, ​শাহ আলমের এস বি ডব্লিউ, ​এখলাছের ফাইভ বিএম, সেভেন বিএম, বেলাল কোম্পানির ইউবিএম (১),​ জলিল কোম্পানির ইউবিএম (২)
বেদার ও জাহাঙ্গীরের এসএমবি, করিম কোম্পানির কেবিসি, মোজাম্মেলের ইভিএম, রিংকু, আরজু, রিয়াদ, নাজুদের বিবিসি, এসএসবি, বিবিএম, বেলাল কোম্পানির এবিসি(২), এবিসি (৩), নাছির উদ্দিনের পিভিএনসহ আরো একাধিক ইটভাটা।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তরের  কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধায় সন্তুষ্ট রেখে এ অবৈধ ইটভাটাগুলো নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা না হওয়া এবং প্রশাসনের শিথিলতার কারণে দিন দিন পাহাড়ি বনাঞ্চল ও এলাকার জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে। অবিলম্বে এ সব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুল হাসান সজীব বলেন, ‘আর্থিক সুবিধার বিষয়টি সত্য নয়, হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে প্রত্যেকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঁচটি ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।’

​পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবান কার্যালয়ের পরিদর্শক মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বাদী হয়ে ১৪ সেপ্টেবর  লামা থানায় এ মামলাগুলো দায়ের করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের গত ১০ সেপ্টেম্বর আদেশের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৫(খ) ও ১২ ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)-এর ৪ ও ৮(৩)(গ) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  লামা   পরিবেশ অধিদপ্তর   ইটভাটা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close