সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হওয়ার আগেই কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় কার্ড করে দেওয়ার নামে অসহায় ও দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অন্তত ৫৯ জনের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগের তীর স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির দুই নেতার দিকে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গত ১৬ আগস্ট চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। তবে অভিযোগের প্রায় এক মাস পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি পরে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের দেওয়া অভিযোগের নথি সেখানে পাওয়া যাচ্ছে না।
অভিযুক্তরা হলেন মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম ও জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপির নেতা আবুল হোসেন।
ভুক্তভোগী জোরপুকুরিয়া গ্রামের রাশিদা বেগমের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন তার এবং তার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে ছবি, এনআইডির ফটোকপি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেন। প্রায় দুই মাসেও কার্ড না পেয়ে যোগাযোগ করলে বিভিন্ন কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
রাশিদা বেগম বলেন, পরে এলাকার কয়েকজনকে বিষয়টি জানালে তারা ভুক্তভোগীদের পক্ষে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহানসহ কয়েকজন নারী।
তাদের অভিযোগ, কার্ড পাওয়ার আশায় টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও তারা কোনো কার্ড পাননি।
অভিযোগকারী শামীম আহমেদ মজুমদারের দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভিজিডি ও ভিজিএফের চাল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ১৬ আগস্ট স্মারক নম্বরসহ ইউএনওর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, প্রায় এক মাসেও অভিযোগের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা আবার ইউএনও কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি নথিতে নেই। এ ঘটনায় তারা হতাশ।
খোরশেদ আলম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘জোরপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের কথামতো ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নিয়েছি।’
তার দাবি, চান্দিনা সদরে যাতায়াত এবং অনলাইনে আবেদন করার খরচ হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে।
আবুল হোসেনও টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘তিন গ্রাম থেকে মোট ৫৯টি আবেদনের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নিয়েছি। টাকা ও কাগজপত্র এখনও আমার কাছে রয়েছে। যারা টাকা ফেরত চাইবেন, তাদের ফেরত দেওয়া হবে।’
চান্দিনায় এখনও ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, ‘আগে কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে রেখেছি; কর্মসূচি চালু হলে তখন কার্ড দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে মহিচাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, ‘খোরশেদ আলম ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেও আবুল হোসেনের দলের কোনো পদ-পদবি নেই। তারা এ ধরনের কাজ করে থাকলে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ নিয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ করা হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এমএ