দেশের প্রধানতম পর্যটন ও বাণিজ্যিক নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একের পর এক দুর্ধর্ষ চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনজীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। বেপরোয়া চোর সিন্ডিকেটের তাণ্ডবে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দেশি-বিদেশি পর্যটকরা। বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, মন্দির এমনকি সরকারি হাসপাতালে হানা দিয়ে চোর চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল।
স্থানীয়দের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে উপজেলায় অন্তত ৪০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
আঙিনা থেকে প্রাইভেটকার চুরি
সর্বশেষ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ৩ নম্বর সদন ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বসতবাড়ির আঙিনায় পার্ক করে রাখা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের নীল রঙের একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো: গ-১২-৩২৭৩) চুরি হয়ে যায়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শামীমুর রহমান মাসুম শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গ্রিল কেটে ১৬ লাখ টাকার মালামাল লুট
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের নতুন বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী হাফেজ অলিউল্লাহর বাসায় ঘটেছে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা। অসুস্থ মেয়েকে দেখতে পুরো পরিবার সিলেটে থাকার সুবাদে চোরেরা বাসার গ্রিল ও আলমারির তালা ভেঙে নগদ ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়, যার মোট আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ টাকা।
সড়ক ও বাসাবাড়ি থেকে বাইক চুরি
একই দিন রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার রোডের ইসলামী ব্যাংকের সামনে এবং আগের দিন মিশন রোডের বাসা থেকে দুটি মোটরবাইক চুরি হয়। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর কলেজ রোড এলাকা থেকে একটি জিক্সার মোটরসাইকেল চুরি হয়। গত ২৫ আগস্ট রেলকলোনির মাজার গলি ও স্টেশন রোড এলাকা থেকেও পৃথকভাবে দোকান ও বাইক চুরির খবর পাওয়া গেছে।
মন্দির ও হাসপাতালেও চোর চক্রের হানা
ধর্মীয় উপাসনালয় কিংবা সরকারি হাসপাতাল—কোথাও মিলছে না নিরাপত্তা। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভুনবীর ইউনিয়নের ভিমশী গ্রামের চারটি মন্দির ও ঠাকুরঘরে হানা দিয়ে দানবাক্সের টাকা, কাঁসার বাসন এবং পূজার গোপালমূর্তি চুরি করে চোরেরা। একই দিন পৌর এলাকার সবুজবাগে লক ভেঙে ৩ লাখ টাকার গহনা লুট হয়।
এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীর চোখে চেতনানাশক স্প্রে করে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় সঙ্ঘবদ্ধ চোর চক্র। গত ৩০ আগস্ট ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকায় ঘুরতে আসা এক পর্যটক দম্পতির গলায় চাকু ধরে ৫০ হাজার টাকা ছিনতাই করা হয়। একই রাতে ভানুগাছ রোডের হাতিম ফার্নিচার মার্কেটের তিনটি দোকানে টিনের চাল কেটে চুরি সংঘটিত হয়।
ধারাবাহিক এ সব অপরাধমূলক ঘটনায় পুলিশের কার্যকর ভূমিকা ও প্রতিরোধমূলক টহল নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও বিশেষ অভিযান চালানোর জোর দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্রই প্রতিটি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কেকে/এআই