নেত্রকোনার মদন উপজেলার বালালী বাঘমারা উচ্চবিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা পুরোনো আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরণের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে জানা যায়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিদ্যালয়ের স্টোররুমে থাকা স্টিলের দরজা-জানালা, পুরোনো কম্পিউটার, মোটর, টিনসহ বেশ কিছু পুরোনো আসবাবপত্র ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে ভাঙারি ব্যবসায়ীরা ভ্যানযোগে এ সব মালামাল বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যান। এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, শনিবার বিকালে ভাঙারি ব্যবসায়ীরা ভ্যান নিয়ে বিদ্যালয় থেকে কিছু মালামাল বের করে নিয়ে যেতে দেখেছেন। তবে কী পরিমাণ মালামাল নেওয়া হয়েছে, তা তারা জানেন না।
বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মুহাম্মদ আউলিয়া বলেন, ‘শনিবার বিকালে স্কুলে এসে দেখি আমাদের কেরানি স্যার স্টোররুমের কিছু আসবাবপত্র ভাঙারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। পরে তারা ভ্যানে করে মালামাল নিয়ে যায়।’
সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, স্টোররুমে থাকা স্টিলের দরজা-জানালা, মোটর, পুরোনো কম্পিউটার, টিনসহ বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রির আগে তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষের সভায় সিদ্ধান্ত ও রেজুলেশন করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘গত শনিবার বিকালে সবার অনুপস্থিতিতে স্টোররুমে থাকা বেশ কিছু আসবাবপত্র অফিস সহকারী হিরণ বিক্রি করে দিয়েছেন বলে নৈশপ্রহরী আমাকে জানায়। পরে কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে স্টোররুম পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর মোস্তফা কামাল হিরণ বলেন, ‘আমার কাছে স্টোররুমের চাবিই নেই। আমি কীভাবে সেখানকার আসবাবপত্র বিক্রি করব? এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
মদন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বারী বলেন, ‘বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘কমিটির অনুমতি ছাড়া একজন অফিস সহকারী বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র বিক্রি করতে পারেন কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কেকে/এআই