নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ছোট বোন শ্রাবন্তী আক্তারকে (১৩) মেরে প্রকাশ্যে বড় বোন বৃষ্টি আক্তারকে (১৭) অপহরণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করল পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন করিম।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ছোট বোন শ্রাবন্তী আক্তারকে মেরে মদন উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে বৃষ্টি আক্তারকে অপহরণকরে নিয়ে যায়। অপহরণের পর বৃষ্টির বড় ভাই সাগর মিয়া ওই দিন রাতে শিহাব মিয়ার নাম উল্লেখ করে অপহরণের মামলা দায়ের করে।
পরে বুধবার রাত ১১টার দিকে নেত্রকোনা জেলা বাস টার্মিনাল হতে বৃষ্টি ভিকটিম বৃষ্টির আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ। বৃষ্টি আক্তারকে উদ্ধার করতে পারলেও অপহরণকারী শিহাবকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্ত শিহাব মিয়া মদন দক্ষিণপাড়ার আবুল হাসনের ছেলে।
জানা যায়, মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পদমশ্রী নওধার গ্রামের আলীম উদ্দিনের বড় কন্যা বৃষ্টি আক্তার ছোট কন্যা শ্রাবন্তী আক্তার ও ভাতিজা ইমরান (৪) একসঙ্গে মঙ্গলবার মদন সদরে আসে। বড় কন্যা বৃষ্টি আক্তার মদন আদর্শ কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজে নবম শ্রেণির ফরম ফিলাপ করার কথা ছিল। বৃষ্টি আক্তার সঙ্গে নিয়ে আসে শ্রাবন্তী ও ছোট ভাই ইমরানকে। মদন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে যাওয়ার সময় উপজেলা প্রেস ক্লাবের সামনে শ্রাবন্তীকে ছুরিকাঘাত করে শিহাব নামের যুবক বৃষ্টি আক্তারকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বৃষ্টির বড় ভাই সাগর মিয়া শিহাবকে আসামি করে মদন থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থানা পুলিশ অভিযানে নামে। অভিযানের ২৪ ঘন্টার পর বুধবার রাতে নেত্রকোনা জেলা বাস টার্মিনাল হতে বৃষ্টি আক্তারকে উদ্ধার করে পুলিশ।
তবে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে ভিকটিম বৃষ্টি আক্তার ও অভিযুক্ত মো. শিহাব (২৪) পরস্পর খালাতো ভাই-বোন। প্রায় ২ বছর আগে উভয় পরিবার চট্টগ্রামে থাকতো। পরে ভিকটিমের বাবা-মা চট্টগ্রাম থেকে মদনে চলে আসলেও ভিকটিম বৃষ্টি আক্তার খালার বাসায় অর্থাৎ শিহাবদের বাসায় বসবাস করত। বাসায় থাকাকালীন তাদের মধ্যে প্রেমেরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনাও হয়েছিল, কিন্তু মেয়ে পক্ষ রাজি না হওয়ায় বিয়ে হয়নি। ঘটনার দিন শিহাব চট্টগ্রাম থেকে মদনে এসে বৃষ্টিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বর্তমানে শিহাব পলাতক রয়েছে।
সালাউদ্দিন করিম জানান, অপহরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিম বৃষ্টি আক্তারকে উদ্ধার করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় শিহাব হোসেনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং স্বেচ্ছায় তার সাথে চলে গিয়েছিল। ভিকটিম বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। শিহাবের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। শিহাবকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কেকে/এআই