কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় ইসলামী ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রে পাঁচ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির শিক্ষক ও পরিচালক মাওলানা মাহবুবুল হক হেলালীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশারা-খান্নাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্থানীয়রা।
জানা যায়, গণশিক্ষা কেন্দ্রটি বিশারা-খান্নাপাড়া গ্রামের মোখলেছুর রহমানের ছেলে মাওলানা মাহবুবুল হক হেলালী পরিচালনা করে আসছেন। কেন্দ্রেটিতে নিয়মিত ১০-১২ শিশু শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই শিশুকে তার বোনসহ মোটরসাইকেলে করে কেন্দ্রে নিয়ে যায় মাওলানা মাহবুবুল হক। ওই সময় কক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। শিশুদের পড়াশোনার পরিবর্তে মোবাইল ফোন খেলায় ব্যস্ত রেখে ভিকটিম শিশুটির সঙ্গে যৌন নিপীড়ন চালায় মাওলানা হেলালি। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিয়ে কান্না শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
ভিকটিমের বোন অভিযোগ করে বলেন, ‘তার বোন কান্নাকাটি শুরু করলে বোনকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সে বোনকে জোরপূর্বক সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে আসেন।’
এলাকার একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, কক্ষটিতে পড়ানোর টেবিল-চেয়ারের পাশাপাশি একটি খাটও রয়েছে। এ ছাড়াও কক্ষটির একাংশে ধান ও বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়। শিশুদের নিয়মিত পাঠদানের স্থান হিসেবে এমন পরিবেশ কতটা উপযোগী, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তারা আরও জানান, মাওলানা মাহবুবুল হক হেলালীর বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজ দেন বলেও স্থানীয়দের দাবি।
অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মাহবুবুল হেলালী পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসলামী ফাউন্ডেশন ফিল্ড সুপারভাইজার ওবায়দুল হক তারেক বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। কেন্দ্রেটির পরিবেশ ভালো নয়। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানাবো।’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনূর ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
কেকে/এআই