শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘শরীয়তপুর কৃষিনির্ভর একটি অঞ্চল। এ জেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে। ডামুড্যার মাটিতেই শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। পাশাপাশি কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুইপ বলেন, ‘ভালো ফলাফল অর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার প্রমাণ দিয়েছে। তবে শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না, দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের জ্ঞান ও মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। ভবিষ্যতে তারা যেনো নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
সরকারের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে অপু বলেন, ‘আমরা এ এলাকাকে রেলের আওতায় আনার জন্য বিশেষভাবে একটি প্রকল্প দাঁড় করানো হয়েছে। এর মাধ্যমে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, গোসাইরহাট রেল প্রকল্পটি বরিশালের সাথে সংযোগ হবে। যাতে করে এ অঞ্চলের মানুষ রেলের সকল সুবিধা পেতে পারে। ভবিষ্যতে আমাদের এ শরীয়তপুর আর অবহেলিত থাকবে না।’
এর আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন এবং ডেঙ্গু ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযানের উদ্বোধন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে আদর্শ বাজেটের আওতায় ডামুড্যায় বিভিন্ন উন্মুক্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৩ সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার এবং শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম নাসির উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মিজ তাহসিনা বেগম।
হুইপ অপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীয়তপুরের কৃষি, গবেষণা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কেকে/এআই