কুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার সংচাইল, হিরাপুর, নবীয়াবাদ, হাটাশ ও বাঙ্গরা গ্রামের মানুষ কুমিল্লা টু সিলেট মহাসড়কে আসতে বর্ষা মৌসুমে ছিল নৌকা নির্ভর। জরুরি প্রয়োজনেও হাতের নাগালে পাওয়া যেত না নৌকা। বর্ষা শেষ হলেও রাস্তা না থাকায় রাত তো নয়-ই দিনেও যাতায়াত ছিল ভয়ের। ফলে সেসব এলাকার মানুষের জীবন ছিল অনুন্নত ও ভোগান্তির। শিক্ষা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, চিকিৎসায় পেতে বেগ পেতে হত। তাদের এ দুরবস্থা দেখে সংচাইল টু বাঙ্গরা সড়ক করে দেন তৎকালীন সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
প্রায় দুই যুগ আগে করা সেই রাস্তাটি একবারের জন্যও সংস্কার করেননি আওয়ামী লীগের দুই সংসদ সদস্য। গত এক যুগ ধরে জরাজীর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থায়ই পথ চলতে হতো এলাকার লাখো মানুষের। একসময়ে আনন্দের সেই সড়কটি পরিণত হয় বিষাদে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইনের কাছে যান এলাকার মানুষ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন আল্লাহ নির্বাচিত করলে সড়কটি সংস্কার করে দেব ইনশাআল্লাহ।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সংচাইল টু বাঙ্গরা সড়ক সংস্কার ও ১৮ ফিট প্রশস্ত কাজের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন মোফাজ্জল হোসাইন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ন।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে আরও উপস্হিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, শাহ আলম সরকার, জহিরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও নাছির উদ্দিন, ধর্মমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ শরীফ আহমেদ, নবীয়াবাদ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলম, ডা. ইয়াছির আরাফাত রিমন, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি জয়নাল মোল্লার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, মুখলেছুর রহমান হিরন, নুর মোহাম্মদ, অবিদ হোসেন অবিদ, আনিছ খান, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
প্রশংসায় ভাসছেন ধর্মমন্ত্রী :
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে সংচাইল টু বাঙ্গরা সড়ক সংস্কার ও ১৮ ফিট প্রশস্ত কাজের উদ্বোধনে প্রশংসায় ভাসছেন মোফাজ্জল হোসাইন। হাসি ফুটেছে স্থানীয় জনতার মুখে। নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে পারবেন বলে আনন্দিত শিক্ষার্থীরাও।
অটোরিক্সা চালক খোকন মিয়া বলেন, ‘আমরা যখন খুব ছোট তখন দেখেছি কায়কোবাদ দাদা এ রাস্তা করে দিয়েছেন। উনি বিদেশে যাওয়ার পর রাস্তাটা আর কেউ ঠিক করেনি। এতদিন গাড়ি চালাতে গিয়ে কোমর ব্যথা হয়ে যেত, গাড়ি কয় দিন পরপর ঠিক করতে হত। আলহামদুলিল্লাহ, দাদা মন্ত্রী হইছে। এখন রাস্তাও সংস্কার হবে আনন্দে গাড়ি চালাবো। আল্লাহ দাদাভাইকে নেক হায়াত দান করুক।’
বদিউল আলম বলেন, ‘আমি যখন এ এলাকায় আসি, তখন এখানে কোন সড়ক ছিল না। নৌকা দিয়ে মানুষ চলাচল করত, বর্তমান ধর্মমন্ত্রী তৎকালীন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংচাইল টু বাঙ্গরা সড়ক করেন। এরপরে আওয়ামী লীগের দুই এমপি এলেন কেউ নতুন রাস্তা তো দূরের কথা, এ সড়কটি সংস্কারও করেনি। ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা তিনি এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাস্তাটি সংস্কার করে দিচ্ছেন। আমার মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ আজ খুব আনন্দিত। আমরা ধর্মমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি।’
আনন্দিত পাশ্ববর্তী উপজেলা দেবিদ্বারের জনগণও। সড়কটি দেবিদ্বারের বড়শালঘর ইউনিয়নের মানুষের মুখে ফুটিয়েছে আনন্দ। দেবিদ্বার উপজেলার বড় শালঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসাইন সজিব বলেন, ‘আমাদের বাড়ি দেবিদ্বারের সীমানায় হলেও আত্নীয়-স্বজন, কৃষিজমি, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ সড়ক ঘিরে। আমরা ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’
কেকে/এমএ