কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা নাহিদের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের একাধিক ক্লু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সদর দক্ষিণ উপজেলার ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকার একটি টিলা থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম বলেন, ‘আজকের যে ঘটনাটি ঘটেছে, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমাদের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে একজন আটক আছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কে কে জড়িত, এর মোটিভ কী ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে মেরে ফেলা হলো—এ সব বিষয় খতিয়ে দেখব। এটি কি শুধুই একটি আইফোন ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রকৃতপক্ষে যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করে পুরো বিষয়টি নিহতের বাবা-মা ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।’
এদিকে অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর শুক্রবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও দক্ষিণ মোড়ের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রক্টরিয়াল টিম। ফুটেজে অপ্রতীমকে এক কিশোরের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে ম্যাজিক প্যারাডাইসের দিকে যেতে দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পরে শনিবার সকালে ওই কিশোরের বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীকে পাঠানো হলে তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায় বলে জানানো হয়। বিষয়টি কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হলে দুপুর ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক কিশোরের মোবাইলের মেসেজ চেক করে দেখা যায় যে, অপ্রতিমকে শুক্রবার বিকালে বাইরে বের হওয়ার জন্য ওই কিশোরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল মেসেজের সূত্র ধরে পুলিশ সন্দেহভাজন ওই কিশোরকে আটক করেছে।
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মহিবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও মেসেজের সত্যতার ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা বিস্তারিত তদন্তের পর বলা সম্ভব হবে।’
অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের পর সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী তারা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবেন।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তোলার কথা বলে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের পর অপ্রতীমের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় তল্লাশি চালান।
কুবি শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ১৫-২০ জন সকালে বের হয়েছি ম্যামের ছেলে অপ্রতীমকে খোঁজার জন্য। তখন স্থানীয় একজন লোক বললেন যে, ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে একটা বাচ্চার লাশ পাওয়া গেছে। এটা শোনার পর আমরা চার-পাঁচজন দৌড়ে গিয়ে দেখি বাচ্চাটা ম্যামের ছেলে। একটি শিয়াল ওর হাতে কামড়াচ্ছিল। এরপর আমরা সবাইকে খবর দিই।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের জিলানী জানান, ‘শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ওই এলাকায় কাজ করতে গিয়ে পাহাড়ের পাশে একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। কাছে গিয়ে শিশুটির মাথায় রক্ত দেখতে পান। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন।’
কেকে/এআই