বিশ্বমঞ্চে স্বাধীন বাংলাদেশের উপস্থিতি এক নতুন ও দীপ্তিময় অধ্যায়ের সূচনা করছে। আশা করি ২০২৬ সালের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ভাষণটি যথাযথ হলে কেবল দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে না, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্বসুলভ এবং উদ্ভাবনী এক কণ্ঠস্বর হিসেবে বাংলাদেশ আবির্ভূত হতে প্রস্তুত? তবে সময়ের দাবি মেনেই এই ভাষণের রূপরেখা তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ২০২৬ সালের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের একটি রূপরেখা এখানে উল্লেখ করা হলো।
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব বৈশ্বিক স্বীকৃতি দাবি করে। উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন রক্ষায় উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো আহ্বান জানাতে পারেন। সবুজ প্রযুক্তির প্রসার এবং অভিযোজন তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো যেতে পারে।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তিগত বৈষম্য দূর করতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠন করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অনুন্নত দেশগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তার দাবি তুলতে পারেন। ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।
বৈশ্বিক মহামারী পরবর্তী স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সমতাভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ নিজস্ব ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে অবদান রাখতে চায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। স্বাস্থ্য খাতকে সুরক্ষিত রাখতে সম্মিলিত বৈশ্বিক তহবিল গঠন করা অত্যন্ত জরুরি হওয়ার বিষয়টি ও তুলে ধরা যেতে পারে ।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাতে পারেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ তার অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতে পারে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি ব্লু হেলমেটদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। প্রধানমন্ত্রী বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং সংলাপের মাধ্যমে সকল আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিতে পারেন। অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সেই সম্পদ মানব উন্নয়নে ব্যয়ের আহ্বান জানাতে পারেন। এটিও যোগ করতে পারেন যে শান্তিই হোক প্রগতির মূল ভিত্তি, এটাই বাংলাদেশের মূল দর্শন।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করতে পারেন। দেশের রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক সমর্থনের অনুরোধ জানাতে পারেন। উল্লেখ করতে পারেন যে অর্থনৈতিক কূটনীতিই হবে আগামী দিনে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
নীল অর্থনীতি বা ব্লু-ইকোনমির সম্ভাবনা উন্মোচনে বৈজ্ঞানিক গবেষণা জোরদার করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং জলদস্যুতা দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানাতে পারেন। আরও উল্লেখ করতে পারেন টেকসই সমুদ্র ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল সম্পদ।
বাংলাদেশ সৌর ও বায়ু শক্তির মতো পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে পারেন। কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক লক্ষ্যে বাংলাদেশ তার প্রতিশ্রুতি পূরণে সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সাফল্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক খাদ্য সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা নেটওয়ার্ক গঠনের প্রস্তাব করতে পারেন। আরও যুক্ত করতে পারেন প্রান্তিক কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে খাদ্যের অপচয় রোধে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করতে পারেন।
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি এবং স্কলারশিপের সুযোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানাতে পারেন। বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ করার আবশ্যকতার বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে।
লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নারীর অধিকার রক্ষা এবং তাদের সুরক্ষায় গৃহীত জাতীয় পদক্ষেপগুলো তুলে ধরতে পারেন। বৈশ্বিক পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল ও বাজার সুবিধা সৃষ্টির আহ্বান জানানো যেতে পারে।
নিরাপদ, নিয়মিত ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের কল্যাণ সাধনে আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়ন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মানব পাচার রোধ এবং অভিবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ তার দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরতে পারে।
সাইবার অপরাধ এবং অপপ্রচার আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নতুন ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী একটি নিরাপদ ও মুক্ত সাইবার স্পেস গঠনে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করতে পারেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুরক্ষায় জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করা অত্যন্ত জরুরি। ডিজিটাল অপরাধ দমনে বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করতে আহ্বানও করতে পারেন।
বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী এশীয় অঞ্চলে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমাত্রিক পরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে পারেন। আরও উল্লেখ করতে পারেন যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সুন্দরবনসহ দেশের অনন্য প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক পরিবেশ দূষণ রোধে উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাতে পারেন। প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে একটি আইনি বাধ্যবাধকতামূলক চুক্তি তুলে ধরা প্রয়োজন।
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং তাদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী ও সম্প্রীতির সমাজ গঠনে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সফল। প্রধানমন্ত্রী দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারেন।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার আলোকে নিরাপত্তা পরিষদের পরিবর্ধন ও গণতান্ত্রিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল দেশগুলোর ন্যায়সংগত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য জোরালো দাবি উত্থাপন করতে পারেন। বাংলাদেশ আরও যোগ করতে পারে যে একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও কার্যকর জাতিসংঘই বিশ্ব শান্তি ও টেকসই প্রগতির একমাত্র নির্ভরযোগ্য চাবিকাঠি।
তবে আন্তর্জাতিক এই মহতী মঞ্চে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি করা অনুচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বিরোধ বা অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের বিতর্ক বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। আশা রাখি প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের ভেতরের রাজনৈতিক দলীয় সংকটের মতো সংকীর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন।
একইভাবে, দেশের বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ কোনো বিতর্কিত রায় নিয়ে কথা বলা সমীচীন নয়। নির্দিষ্ট কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা আদালতের বিচারাধীন বিষয় জাতিসংঘে উত্থাপন করা অনুচিত। এটি দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক ফোরামে সবসময় রাষ্ট্রীয় নীতি লক্ষ্য এবং বৈশ্বিক কল্যাণের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাওয়া উচিত।
তদুপরি, কোনো অসত্য অর্থনৈতিক তথ্য বা কাল্পনিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাই কোনো ধরনের অতিরঞ্জিত বা ভিত্তিহীন তথ্য বিশ্বমঞ্চে দেশের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে পারে।
পাশাপাশি, দেশের ধর্মীয় বা জাতিগত কোনো অতিরঞ্জিত বিবরণ দেওয়া অনুচিত। এগুলো দেশের বহুত্ববাদী সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘ ঐতিহ্যের পরিপন্থি হিসেবে গণ্য হয়। রাষ্ট্রীয় স্তরে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অভ্যন্তরীণভাবে মোকাবিলা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে থাকা দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত বিরোধের আক্রমণাত্মক উপস্থাপন অনুচিত। কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বা অসংযত বক্তব্য দেওয়া কূটনীতির নীতিবিরুদ্ধ। জাতিসংঘের মঞ্চে দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলো সবসময় শান্ত ও কূটনৈতিক ভাষায় আলোচনা করা উচিত।
বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বা সময়সীমা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করা যাবে না। মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে কোনো অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ত্রুটি বা দুর্নীতির অভিযোগ জাতিসংঘে তোলা অনুচিত। এগুলো দেশের সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর আন্তর্জাতিক দাতাদের অনাস্থা তৈরি করতে পারে। ভাষণে কেবল সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের জাতীয় অঙ্গীকারের প্রতি আলোকপাত করা উচিত।
বিশ্বের বুকে শান্তি ও প্রগতির দূত হিসেবে বাংলাদেশ চিরকাল মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আগামী দিনের সেই সোনালি সম্ভাবনার কথা বলে এবং বিশ্বমঞ্চে সত্যের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এই ঐতিহাসিক ভাষণের সুরটি বেঁধে দেওয়া যায় কবিতার এই ছন্দময় পঙ্ক্তিমালায় : উদিবে সূর্য কাটিবে আঁধার, ভাঙিবে বন্ধন ভয়ের, সাম্যের গানে মুখরিত হবে, এ বিশ্ব মানবতার। সবুজ পৃথিবী সুনীল সাগর, আমাদের এই ঘর, ভেদাভেদ ভুলে হাত মেলাব, কেহ নহে আর পর। বিজ্ঞানের আলো ছড়াবো মোরা, ঘুচিবে দৈন্য দুখ, শান্তির পতাকাতলে হাসবে, প্রতিটি মলিন মুখ। বাংলাদেশ এই বিশ্বমঞ্চে, প্রগতির এক নাম, মুক্তির আলো জ্বেলে দিয়ে যায়, জানাই লাল সালাম।
জাতিসংঘের এই ঐতিহাসিক অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজের নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করার এক অনন্য ও স্বর্ণালী সুযোগ। আশা করি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাবে। সত্য, বিজ্ঞান এবং মানবিকতার ওপর ভিত্তি করে রচিত এই ভাষণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হবে।
লেখক : কলামিস্ট
কেকে/ এমএস