‘পুলিশ জনগণের বন্ধু— এই স্লোগান থানার দেয়ালে, পোস্টারে কিংবা সরকারি বক্তৃতায় আমরা বহুবার দেখেছি। কিন্তু সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতা প্রায়ই উল্টো। থানায় ঢুকতে সংকোচ, মামলা করতে তদবির, এমনকি সেবা পেতে চা-নাস্তার খরচও অনেক সময় দিতে হয়। এটিকে কয়েকজন খারাপ সদস্যের ব্যক্তিগত দোষ বললে মূল কথাটি এড়িয়ে যাওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানের আচরণ নির্ধারিত হয় আইনি কাঠামো, প্রণোদনা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা দিয়ে। বাংলাদেশ পুলিশের ক্ষেত্রে এর পেছনে আছে ঔপনিবেশিক আইনি উত্তরাধিকার, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল জবাবদিহি, অপর্যাপ্ত সম্পদ ও দীর্ঘদিনের পেশাগত সংস্কৃতি।
বাংলাদেশ পুলিশ আজও মূলত ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের কাঠামোয় চলে। ইউএনডিপির ভাষ্য অনুযায়ী, এই আইনের অগ্রাধিকার সেবার চেয়ে নিয়ন্ত্রণ; সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশরা শাসন নিরাপদ রাখতেই এটি করেছিল। সংস্কারের চেষ্টা যে হয়নি, তা নয়।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন পুলিশ অধ্যাদেশের খসড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়; ২০১৩ সালে সেটি বিল আকারে সাজানো হলেও আইন হয়নি। খসড়ায় স্বাধীন পুলিশ কমিশন ও নাগরিকের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার প্রস্তাব ছিল।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পুলিশের কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপকে ফৌজদারি অপরাধ করার প্রস্তাবই এটি আটকে থাকার সম্ভাব্য কারণ। অথচ পাকিস্তান ২০০২ সালেই নতুন পুলিশ আইন করেছে; প্রয়োগ আলাদা প্রশ্ন, তবে আইন বদলানো যে সম্ভব, সেই দৃষ্টান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন না বদলানোয় সরকার যেই আসুক, পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির লাগাম থাকে নির্বাহী বিভাগের হাতে।
পুলিশ জনবান্ধব হয়ে উঠতে না পারার সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। যে কর্মকর্তা জানেন তার পোস্টিং ও পদোন্নতি ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে, তিনি স্বাভাবিকভাবেই জনগণের চেয়ে ক্ষমতাবানদের কথা বেশি শুনবেন। স্থানীয় প্রভাবশালীর ফোন এলে থানার অগ্রাধিকার বদলে যায়। ক্ষমতাসীন দলের লোকের বিরুদ্ধে মামলা নিতে অনীহা দেখা যায়, আর বিরোধী মতের মানুষ অজ্ঞাতনামা আসামির মামলায় হয়রানির শিকার হন। এসব অভিযোগের নির্ভরযোগ্য পরিমাণগত প্রমাণ কম, কারণ গোপন লেনদেন মাপা কঠিন। কিন্তু সাধারণ মানুষ বিষয়টি চোখের সামনে দেখে বলেই পুলিশকে আপন মনে করে না।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা এই আস্থাহীনতাকে চরমে নিয়ে গেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের ঘটনায় ১ হাজার ৪৯০ জন পুলিশ সদস্য মামলার আসামি হয়েছেন এবং ১৪১ জন বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন। বাহিনীর ভেতরে এ নিয়ে বিতর্কও আছে, কারণ কেউ কেউ বলছেন যাচাই ছাড়াই অনেককে আসামি করা হয়েছে। এখানে শুধু এটুকু বলা দরকার যে রাজনৈতিক নির্দেশে চলা বাহিনী শেষ পর্যন্ত নিজের ও জনগণের মধ্যে গভীর দেয়াল তুলে ফেলে।
জনগণের অভিযোগ যে বানানো নয়, টিআইবির খানা জরিপে তার ধারাবাহিক প্রমাণ আছে। ২০২৩ সালের জরিপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ক্ষেত্রে দুর্নীতির শিকার খানার হার ছিল ৭৪ দশমিক ৫ এবং ঘুষের হার ৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
এ বছরের ২৫ জুন প্রকাশিত ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ-২০২৫”-এ (তথ্যকাল ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর) তা যথাক্রমে ৬৯ দশমিক ৪ ও ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ। পাসপোর্ট (৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ) ও বিআরটিএ (৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ) ঘুষে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও এরপরই আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি ও ভূমি। সার্বিকভাবে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার অন্তত একটি খাতে ঘুষের শিকার হয়েছে, ২০২৩ সালে যা ছিল ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ; তবে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষ ৫ হাজার ৬৮০ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১২৪ টাকা হয়েছে।
এ খাতের হারে কিছুটা কমতি আছে, কিন্তু কমতিকে সংস্কারের ফল বলার আগে দুটি সতর্কতা দরকার: এটি খানার অভিজ্ঞতাভিত্তিক জরিপ, আর জরিপকালের শুরুতে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশ কিছুদিন কার্যত অচল ছিল, ফলে নাগরিক-পুলিশ যোগাযোগই সাময়িকভাবে কমে থাকতে পারে।
সাধারণ নাগরিকের কাছে দুর্নীতি নানা চেহারায় আসে। সাধারণ ডায়েরি বা মামলা নিতে খরচ লাগে, ঘটনাস্থলে গেলে যাতায়াত ও আপ্যায়নের নামে টাকা দিতে হয়, তদন্ত প্রতিবেদনে আসামির নাম বাদ পড়ে বা ধারা দুর্বল করা হয়। রাস্তায় ট্রাফিক ও মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় হয়, আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহজনক গ্রেপ্তারের হুমকি তো আছেই।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ ধারায় পরিবর্তন আনে; গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিবারকে জানানো এবং সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়। অর্থাৎ আইনি রক্ষাকবচ অনেকটা তৈরি হয়েছে; এখন প্রশ্ন মূলত মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের।
কোনো প্রতিষ্ঠান তখনই জনবান্ধব হয়, যখন সে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রায়ই পুলিশই তদন্ত করে, ফলে বিচার অনেক সময় বিভাগীয় ব্যবস্থা বা বদলিতেই শেষ হয়ে যায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয়ে সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২১ সালে বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন ১ লাখ ১৭ হাজার সদস্য, অথচ ওই সময়ে ফৌজদারি মামলা হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৬৯২টি। একই সদস্য একাধিকবার ব্যবস্থার আওতায় এলে সংখ্যাটিকে বাহিনীর প্রায় অর্ধেক সদস্য ধরা ঠিক হবে না। তবু ফারাকটি ইঙ্গিত দেয়, শাস্তি প্রধানত বিভাগের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে।
স্বাধীন তদারকি সংস্থার অভাব, সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলায় পূর্বানুমতির বিধান (ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা) এবং ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের সীমিত প্রয়োগ এই দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রেখেছে।
তবে ব্যর্থতার পেছনে শুধু ইচ্ছার অভাব নেই, সক্ষমতার সংকটও আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী পুলিশের পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫টি। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের দেশে এটি প্রতি লাখে মোটামুটি ১২২ জন, তবে এ হিসাব মঞ্জুরীকৃত পদের, কর্মরত সদস্যের নয়। প্রতি লাখে ২২২ জনের যে অনুপাত প্রায়ই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বলে উদ্ধৃত হয়, তার আনুষ্ঠানিক জাতিসংঘ-উৎস পাওয়া যায়নি; একে নির্দেশক মাপকাঠি হিসেবে দেখাই ভালো। আরও বড় সমস্যা বণ্টন।
জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জন্য আছেন মাত্র ৩৬৬ জন পুলিশ সদস্য। এর সঙ্গে আছে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সীমিত ছুটি, নিম্নপদস্থদের বেতন ও আবাসন, যানবাহন-প্রযুক্তি-ফরেনসিক সহায়তার ঘাটতি এবং একজন তদন্তকারীর ঘাড়ে বহু মামলা। আবার বেতন বাড়ালেই ঘুষ বন্ধ হয় না, যদি ধরা পড়ার ঝুঁকি ও শাস্তির নিশ্চয়তা না থাকে। তাই কল্যাণ ও জবাবদিহি একসঙ্গে এগোতে হবে।
জনবান্ধবতার আসল পরীক্ষা দুর্বলদের সঙ্গে আচরণে। নারী, শিশু, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ থানায় প্রায়ই সবচেয়ে বেশি বাধার মুখে পড়েন। ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতার ভুক্তভোগী মামলা করতে গিয়ে হেনস্তা, অবিশ্বাস ও আপসের চাপের শিকার হন। বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব উদ্যোগে করা ২০১৮ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, অপরাধের শিকার ৭৩ শতাংশের বেশি মানুষ ঘটনাটি জানাননি; কারণ হিসেবে এসেছে ভোগান্তি, পুলিশের অবন্ধুসুলভ আচরণ ও অর্থ-সংশ্লিষ্টতা। ফলে তৈরি হয় দুষ্টচক্র: জনগণ পুলিশকে বিশ্বাস করে না, সহযোগিতা দেয় না; ব্যর্থ পুলিশ চাপে আরও কঠোর ও অনিয়মনির্ভর হয়; অবিশ্বাস আরও বাড়ে। আস্থা তাই বিলাসিতা নয়, পুলিশি কাজের পূর্বশর্ত।
অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করে। কমিশন ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ১০৮টি সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেয়। কিন্তু সুপারিশ ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফাঁক বড়।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের পুলিশ কমিশনের গেজেট প্রকাশিত হয়, তবে তার কার্যক্রম সুপারিশ, পরামর্শ ও জনসচেতনতামূলক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। সর্বশেষ সংযোজন র্যাবকে ঘিরে। ১০ সেপ্টেম্বর সংসদে বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে কণ্ঠভোটে “স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬” পাস হয়েছে। এতে র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এসআরবি নামে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান আছে, আর র্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ নতুন ইউনিটে গেছে। সমালোচকেরা একে সাইনবোর্ড বদল বলছেন। কোন ব্যাখ্যা টিকবে, তা নির্ভর করবে নতুন বাহিনীর জবাবদিহি-কাঠামো ও বাস্তব আচরণের ওপর; এত অল্প সময়ে রায় দেওয়া অকাল হবে।
এখন উত্তরণের পথ কী? একসঙ্গে সবকিছু বদলানো সম্ভব নয়, তাই আদর্শ সমাধানের চেয়ে অগ্রাধিকার ও ক্রম বেশি জরুরি।
প্রথমত, ১৮৬১ সালের আইন বাতিল বা সংস্কার করে গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী নতুন পুলিশ আইন করতে হবে। পুলিশ কমিশনের গঠন-প্রক্রিয়া, সদস্য নির্বাচন ও বাজেট নির্বাহী বিভাগের খেয়ালের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ২০০৭ সালের খসড়ার প্রধান শিক্ষা হলো, কমিশন গঠনের চেয়েও জরুরি পুলিশের কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা এবং তা লঙ্ঘনের শাস্তি ঠিক করা। আইজিপি নিয়োগে স্বচ্ছ প্যানেল পদ্ধতি এবং ওসি ও এসপি পদে নির্দিষ্ট মেয়াদ ও স্বচ্ছ বদলিনীতি পোস্টিং-বাণিজ্য কমাবে।
দ্বিতীয়ত, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের জন্য পুলিশের বাইরে স্বাধীন সংস্থা দরকার। নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং ২০১৩ সালের আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে সিসিটিভি এবং অভিযানে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা যায়, তবে ফুটেজ সংরক্ষণ ও স্বাধীন সংস্থার নাগালে থাকার নিশ্চয়তা না থাকলে ক্যামেরা প্রদর্শনীর সামগ্রীই থাকবে। পূর্বানুমতির বিধান এমনভাবে সংস্কার করা দরকার, যাতে তা জবাবদিহি আটকানোর ঢাল না হয়।
তৃতীয়ত, সেবাকে স্বচ্ছ ও ট্র্যাকযোগ্য করতে হবে। অনলাইনে জিডি ও ডিজিটাল রসিদের উদ্যোগ আছে, তবু থানার সেবা-চার্টার ও হটলাইন দৃশ্যমান করা জরুরি। কোন সেবায় কত সময় লাগবে এবং কোনটির জন্য ফি নেই, তা থানার সামনে স্পষ্ট থাকলে নাগরিক নিজেই অনিয়ম চিনতে পারবেন। টিআইবির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দুর্নীতির শিকার হয়েও ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ খানা অভিযোগ করেনি; অভিযোগের পথ সহজ ও নিরাপদ না হলে স্বচ্ছতার উদ্যোগ অর্ধেক কাজ করবে।
চতুর্থত, সক্ষমতা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করতে হবে। শিফটভিত্তিক কাজ ও নিশ্চিত ছুটি, নিম্নপদস্থদের বেতন-আবাসন-চিকিৎসা, যানবাহন, ডিজিটাল তদন্ত ও ফরেনসিক সক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা দরকার। কেবল সংখ্যা বাড়ালে চলবে না; কোথায় কত জনবল লাগবে, তা অপরাধের ধরন ও জনঘনত্বের ভিত্তিতে ঠিক করতে হবে, নইলে নতুন পদ শুধু শহুরে থানায় জমে থাকবে। সৎ থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতির হলে সততার আহ্বান শুধু আহ্বানই থাকবে।
পঞ্চমত, শৃঙ্খলা ও আদেশ পালনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণে মানবাধিকার, নাগরিক আচরণ, নারী ও শিশুবান্ধব সেবা এবং সংকট ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক ও নিয়মিত করতে হবে। সততার স্বীকৃতি এবং অন্যায় প্রকাশে সাহসী সদস্যের সুরক্ষা ভেতরের সংস্কৃতি বদলাতে সাহায্য করবে।
ষষ্ঠত, কমিউনিটি পুলিশিংকে কাগুজে কমিটির বদলে বাস্তব রূপ দিতে হবে। স্থানীয় নাগরিক, শিক্ষক, নারী প্রতিনিধি ও তরুণদের নিয়ে থানাভিত্তিক নিয়মিত গণশুনানি হলে মানুষ সরাসরি প্রশ্ন করতে পারবে।
মাঠপর্যায়ে অনেক সৎ ও দায়িত্বশীল সদস্য সীমিত সম্পদ নিয়ে কাজ করেন, কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থায় ভালো মানুষ বেশিদূর যেতে পারেন না। পুলিশ সংস্কারের ইতিহাসে একটি প্যাটার্ন বারবার চোখে পড়ে: বিরোধী অবস্থানে থাকার সময় নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ কমানোর দাবি যতটা জোরাল থাকে, ক্ষমতায় গেলে সেই নিয়ন্ত্রণ ছাড়ার আগ্রহ ততটা থাকে না।
এটি কোনো একক দল বা সরকারের সমস্যা নয়; ২০০৭-এর খসড়া, ২০১৩-র বিল এবং সাম্প্রতিক কমিশন ও ব্যাটালিয়ন-বিতর্ক, সবখানেই সদিচ্ছার প্রশ্নটি ফিরে এসেছে। সেই সদিচ্ছা টেকসই হয় তখনই, যখন নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও আদালত সংস্কারের দাবিকে নির্বাচনি মৌসুমের বাইরেও জীবিত রাখে।
যেদিন একজন সাধারণ নাগরিক বিনা ভয়ে ও বিনা খরচে থানায় গিয়ে সেবা পেতে পারবেন, সেদিনই “পুলিশ জনগণের বন্ধু” স্লোগান দেয়ালের লেখা ছাড়িয়ে বাস্তবে পরিণত হবে।
লেখক: কলামিস্ট ও গবেষক
কেকে/সাশ