ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ছবি : প্রতিনিধি
হেমন্ত আসার আগেই শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমান্ঞ্চলের জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগর। সকালে ঘাসের ডগা ও গাছের পাতায় জমছে শিশির। ভোরের দিকে হালকা কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে গ্রামীণ পথঘাট। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের ম্লান আলো জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদ ও খোলা মাঠ এলাকায় কুয়াশার ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি ছিল।
ঘাসের ডগায় চিকচিক করছে শিশির বিন্দু। অথচ ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন শরৎকাল। শীত আসতে আরও প্রায় মাসখানেক বাকি। এ দিকে ভোরের আলো ফোটার আগেই কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চুয়াডাঙ্গার সীমান্তবর্তী উপজেলা জীবননগরের পুরো এলাকা। মধ্যরাতের পরই শিশির পড়তে শুরু করে। সকালে রোদের তেজ বাড়ার পর মিলিয়ে যায় কুয়াশা। মাঝে মধ্যে কুয়াশার কারণে সূর্য দেখা যায় না।
ভোরের আলো ফোটার আগেই অনেকেই ছুটছেন নিজেদের কর্মস্থলে। ছবি : প্রতিনিধি
সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। সকালে কুয়াশার মধ্যে হাঁটতে বের হয়েছেন কেউ কেউ। শ্রমজীবীদের অনেকেই আবার ছুটছেন কাজের খোঁজে। শিক্ষার্থীদের কেউ স্কুলের উদ্দেশে, আবার কেউ বের হয়েছেন প্রাইভেট পড়তে। গাছের পাতা, সবুজ ধানের খেত আর ঘাসের ওপর শিশিরবিন্দু জমেছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলায় দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
কুয়াশা ভেদ করে হেড লাইট জ্বালিয়ে ছুটে চলছে দূরপাল্লার গাড়ি। ছবি : প্রতিনিধি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে মধ্যরাতের পর থেকে পাখার বাতাসে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। অনেকেই রাতে কাঁথা কিংবা হালকা চাদর গায়ে জড়াচ্ছেন। রাতে ফ্যান বন্ধ রাখছেন। ভোরের স্নিগ্ধ আবহাওয়া ও শীতের হালকা আমেজ উপভোগ করতে অনেককেই সড়ক ও গ্রামের পথ ধরে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার সকালবেলার ব্যায়াম ও শরীরচর্চায় অংশ নেন।
প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর রূপে জীবননগরবাসীর কাছে শীতের আগমনী বার্তা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ দিকে দিনের পরিধিও কমে আসছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা শীতে শিহরণ জাগছে শরীরে। টিনের চালে টুপটাপ করে ঝরছে শিশিরকণা।
শরতের সকালের এ পরিবর্তিত আবহাওয়া মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। ঘাসের ডগা, ধানের শীষ ও গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির সূর্যের আলোয় মুক্তাদানার মতো ঝলমল করছে। কুয়াশা আর শিশিরে গ্রামীণ প্রকৃতিতে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ।
শাপলা-শালুক তুলছে গ্রামের শিশুরা। ছবি : প্রতিনিধি
অন্যদিকে শীতের আগমনে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম আলুসহ শীতকালীন সবজি চাষে মাঠে নেমেছেন কৃষক-কৃষাণীরা। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক ফুলকপি, মূলা, লাউশাক, বরবটি ও লালশাকসহ বিভিন্ন সবজি বাজারে তুলতে শুরু করেছেন।
ধোপাখালী গ্রামের রাশেদ বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই রাতের শেষভাগে কুয়াশার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোরে ঘুম ভাঙতেই চারপাশে ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূতি, হাত পাখার বাতাসেও যেন শীতের মৃদু পরশ। রাতে ফ্যান বন্ধ করে ঘুমাতে হচ্ছে।’
উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের কৃষক শফিউল্লাহ বলেন, ‘শীত এখনও পুরোপুরি আসেনি। তবে ভোরের কুয়াশা আর রাতের ঠান্ডা জানান দিচ্ছে, শীতের দিনগুলো ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। শীতে পোকার আক্রমণ কম থাকায় শাক-সবজি ভালো হয় ‘
এ দিকে শীতের আগমনকে সামনে রেখে মানুষের সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, ‘সকালে হালকা কুয়াশা, সঙ্গে শীতল বাতাস-প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে শীতের আবহ তৈরি হচ্ছে। ভোরের পরিবেশে এখন সেই পরিবর্তন বেশ অনুভূত হচ্ছে।প্রশাসনিকভাবে শীতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে ‘
শীতে খেটে খাওয়া হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সাহায্য সহযোগিতাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।