ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর দুর্দশা ও স্থানীয়দের উদ্বেগের মধ্যে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। তবে সাময়িক প্রতিরক্ষার পরিবর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল থেকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় নদীর তীব্র ভাঙনকবলিত ১১০ মিটার অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ হাজার জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়।
সম্প্রতি মধুমতি নদীতে পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়। এতে চরখোলাবাড়িয়া এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আটটি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
এদিকে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার আরও শত শত বসতবাড়ি, স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা। বসতভিটা ও শেষ সম্বলটুকু হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় পরিবারগুলো।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত বাসিন্দারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারা নদীভাঙন রোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরবর্তী বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
স্থানীয় মো. আলামিন মিয়া বলেন, “জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন হয়তো ঠেকানো সম্ভব হবে, কিন্তু এতে আমরা স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না। আমাদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে। এতে আমাদের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা পাবে।”
এ বিষয়ে ফরিদপুর পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মো. মজিবর রহমান বলেন, “বর্তমানে প্রতিটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ও সাময়িক পদক্ষেপ হিসেবে নদীভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। পরবর্তী শুকনো মৌসুমে নদীভাঙন স্থায়ীভাবে রোধে প্রয়োজনীয় টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেকে/এমএ