ঢাকের বোল, শঙ্খধ্বনি আর ধূপের সুবাসে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মেতেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। গতকাল মহাষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনের মূল পূজার আনুষ্ঠানিকতা। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমী। নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সপ্তমীর পূজা। তবে এবারের দুর্গোৎসবে রয়েছে কিছুটা ব্যতিক্রম—সপ্তমী তিথি পড়েছে দুই দিন ধরে। ফলে পূজার আনন্দ-আয়োজনও গড়াবে ছয় দিনে।
সপ্তমীর সকালে ধর্মীয় রীতি মেনে নবপত্রিকা স্নান ও স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। নবপত্রিকাকে দেবীর প্রতীক হিসেবে পূজার আয়োজন করা হয়। এরপর মন্ত্রোচ্চারণ, অঞ্জলি ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ। ভক্তদের প্রার্থনা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো আর উৎসবের আবহে দিনটি কাটবে।
এবার রোববারও সপ্তমী তিথির বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার মহাষ্টমী ও সন্ধিপূজা, মঙ্গলবার মহানবমী এবং বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।
উৎসবের আমেজ দেশজুড়ে
দুর্গাপূজা শুধু পূজা-অর্চনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আনন্দ, মিলন ও সম্প্রীতিরও উৎসব। নতুন পোশাক, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক আয়োজন আর মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো—সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবের দিনগুলো হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। শহর থেকে গ্রাম, অলিগলি থেকে বড় মণ্ডপ—সবখানেই এখন উৎসবের প্রস্তুতি ও ব্যস্ততা।
এবার সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজাকে ঘিরে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ছে। প্রতিটি মণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য নানা আয়োজন।
উৎসবের আনন্দে নিরাপত্তার প্রস্তুতি
উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে পূজামণ্ডপগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। মণ্ডপে মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্যরা।
রাজধানীর ২৫৭টি পূজামণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত ২ হাজার ১০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।
উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার ৬১৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের প্রায় দেড় হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ ডুবুরি দলও।
অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সারা দেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা।
মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনন্দ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ধর্মীয় আচার, উৎসবের উচ্ছ্বাস আর মানুষের মিলনমেলায় আগামী কয়েক দিন মুখর থাকবে পূজামণ্ডপগুলো। ভক্তদের প্রত্যাশা, আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহে নিরাপদ পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে সম্পন্ন হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
কেকে/সাশ