সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬,
৩ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু      ● ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী       ● গণবিক্ষোভে অস্থির ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ২৪০০—ম্যাক্রোঁর কঠোর বার্তা      ● দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন ইশরাক      ● আজ মহাঅষ্টমী: কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজায় মুখর দুর্গোৎসব      ● মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর      ● আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অগ্রাধিকার
মোতাহার হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৭ পিএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য তুলনামূলক কম দায়ী বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অভিযোজন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থের বড় অংশই জোগাড় করতে হচ্ছে নিজস্ব বাজেট ও ঋণের ওপর নির্ভর করে। এ অবস্থায় নতুন প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, সহজ শর্তে ও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছানোর দাবি তুলেছে নাগরিক সমাজ।

সম্প্রতি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ইক্যুইটিবিডি, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (বিসিজেএফ), কোস্ট ফাউন্ডেশন, আভাস, বিন্দু ও স্ট্রিট চাইল্ড-এর যৌথ আয়োজনে ‘কপ-৩১ ও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: জলবায়ু সংকট, কৃষি ও নারী; অভিযোজন, অর্থায়ন ও ন্যায্যতা’ শীর্ষক সেমিনারে এ দাবি জানান বক্তারা।

আসছে নভেম্বরে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার নির্ধারণে এসব বিষয়কে সেমিনারে গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু অভিযোজনের পরিকল্পনা ও অর্থায়নে কৃষি, বিশেষ করে উপকূলীয় নারী কৃষকদের বাস্তব প্রয়োজন, অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে পঠিত প্রবন্ধে বলা হয়, জলবায়ু অর্থায়নে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। কপ-২৯-এ ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বছরে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন উৎস থেকে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থায়ন বাড়ানোর প্রচেষ্টার কথা বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অভিযোজন চাহিদার তুলনায় এ অর্থায়ন যথেষ্ট নয়। 

সেমিনারের জন্য প্রস্তুত অবস্থানপত্রে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০৩৫ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজনের জন্য বছরে ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। অথচ ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক সরকারি অভিযোজন অর্থায়নের প্রবাহ ছিল মাত্র ২৬ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ বাস্তবায়নে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। অর্থাৎ বছরে গড়ে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন দরকার। বিপরীতে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অভিযোজন অর্থায়ন এসেছে বছরে গড়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধান পূরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থায়নের শর্ত সহজ করা জরুরি। জলবায়ু অর্থায়নের বড় উদ্বেগ হলো ঋণনির্ভরতা।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সরবরাহ ও সংগঠিত সরকারি জলবায়ু অর্থায়নের ৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছিল ঋণ, যা সরকারি অর্থায়নের প্রায় ৬৭ শতাংশ। অনুদানের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য তুলনামূলক কম দায়ী দেশগুলোকে অভিযোজনের অর্থ জোগাতে ঋণ নিতে হলে তাদের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষিতে বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।

বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম ( বিসিজেএফ) এর পক্ষ থেকে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী সংকটের মুখে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী খরা, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি কৃষি উৎপাদনকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা ও মিঠাপানির সংকট ধান, শাকসবজি এবং অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস সেচনির্ভর কৃষির ব্যয় বাড়াচ্ছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তায় ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পোকামাকড় ও উদ্ভিদবাহিত রোগের বিস্তার কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফসলহানি, আয় কমে যাওয়া এবং ঋণের বোঝা অনেক কৃষক পরিবারকে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে খাদ্য সরবরাহ, বাজারদর ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানেও। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র কৃষক, ভূমিহীন শ্রমিক এবং কৃষিনির্ভর নারী।

এই পরিস্থিতিতে বিসিজেএফ এর পরামর্শ হচ্ছে, ‘ঝুঁঁকি মোকাবিলায় জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, উন্নত সেচব্যবস্থা, লবণাক্ততা ও খরাপ্রতিরোধী প্রযুক্তি, আগাম সতর্কতা এবং কৃষকদের সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি অভিযোজন কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু অর্থায়ন বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের জীবিকা রক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখনই সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

এমনি অবস্থায়  ‘কপ-৩১’-এ বাংলাদেশের অন্যতম দাবি হওয়া উচিত জলবায়ু অর্থায়ন হবে পর্যাপ্ত, পূর্বানুমানযোগ্য, সহজে প্রাপ্য এবং মূলত অনুদানভিত্তিক। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশ ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন ও অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন দ্রুত ও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম। 

অবস্থানপত্রে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ওই বছর দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ ছিল কৃষিতে। কিন্তু বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা ও জলাবদ্ধতা কৃষি উৎপাদনকে ক্রমাগত চাপে ফেলছে। ফসলের ক্ষতি কৃষকের আয় কমায়, খাদ্যের দাম ও প্রাপ্যতায় চাপ তৈরি করে এবং পরিবারকে দারিদ্র্য ও ঋণের ঝুঁকিতে ঠেলে দেয়।

উপকূলীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলায় প্রায় চার কোটি মানুষের বসবাস। উপকূলীয় এলাকার প্রায় ১০ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর বা ৬২ শতাংশ জমি কোনো না কোনো মাত্রায় মাটির লবণাক্ততায় আক্রান্ত। লবণাক্ত পানি সেচে ব্যবহারের ফলে উৎপাদনশীলতা কমতে পারে, বাড়তে পারে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়। এ পরিস্থিতিতে সুপেয় পানির নিরাপত্তা, লবণসহিষ্ণু ও জলবায়ুসহিষ্ণু ফসলের জাত, কৃষিপ্রযুক্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে লবণাক্ততা দূরীকরণে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। কৃষি, পানি ও জনস্বাস্থ্যকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের কৃষিতে নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও জমির মালিকানা, কৃষিঋণ, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও বাজারে প্রবেশাধিকারে তারা নানা বাধার মুখে পড়েন। অবস্থানপত্রে উদ্ধৃত কৃষি নমুনা শুমারি ২০২০-এর তথ্য অনুযায়ী, কৃষিজমির মালিক বা অধিকারধারীদের মধ্যে নারীর অংশ মাত্র ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ।  জমির মালিকানা সীমিত থাকায় অনেক নারী কৃষিঋণ, বিমা ও অন্যান্য উৎপাদন-সম্পদের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিশ্রমে মজুরিবৈষম্য, ডিজিটাল কৃষিতথ্য ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ পানির সংকট তাঁদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলে। উপকূলীয় এলাকায় পানির জন্য দূরে যেতে হলে কৃষিকাজের পাশাপাশি নারীদের সময় ও শ্রমের বোঝাও বাড়ে।

তাই নারী কৃষকদের শুধু জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করলেই হবে না; তাদের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তাদের জন্য নির্দিষ্ট ও অনুসরণযোগ্য অর্থায়ন, কৃষিঋণ, বীজ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, বাজারসংযোগ এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।

এ ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় কৃষি ও নারীকে গুরুত্ব দেয়া হলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। অভিযোজন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হচ্ছে,  কতটা নারী কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং তাদের উৎপাদন, আয় ও অভিযোজন সক্ষমতায় কী পরিবর্তন আসতো অজনাই থেকে যাচ্ছে। শুধু কতটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, তা নয়; কৃষি উৎপাদন, খাদ্যনিরাপত্তা, আয় ও জলবায়ুজনিত ক্ষতি মোকাবিলার সক্ষমতায় কী ফল এসেছে, সেটিও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

প্রত্যাশা থাকবে, আসন্ন ‘কপ-৩১’ বাংলাদেশের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার আরেকটি পর্ব নয়; বরং অর্থায়নের ন্যায্যতা, কৃষির সুরক্ষা এবং নারী কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ যাতে হাত ছাড়া না হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া। তাছাড়া নতুন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিদ্যমান অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন, ঋণের পরিবর্তে অনুদান, ক্ষয়ক্ষতির অর্থায়নে দ্রুত প্রবেশাধিকার এবং স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এ সম্মেলন আমোদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন আরও কার্যকর হতে পারে।

তাই জলবায়ু ন্যায়বিচারের লক্ষ্য পূরণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে অর্থ, প্রযুক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতায় পৌঁছানোই হওয়া উচিত বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক-বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  কপ-৩১   বাংলাদেশের অগ্রাধিকার  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close