দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় মারুফ হোসেন (৪৫) নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিহতের ভাতিজা কামরুজ্জামান কাউছার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত নিহতের ভাই বিল্লাহ হোসেনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মারুফের মৃত্যুর খবর পান।
এর আগে, বুধবার (২১ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে দেশটির কেপটাউনের বুস্টারের জুলুটেম্বা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মারুফ হোসেন শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আব্দুস সোবাহানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান মারুফ। সেখানে গিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ১৬ বছরেও দেশে ফেরা হয়নি তার। তবে চলতি বছর দেশে ফেরার কথা ছিল তার। বিভিন্ন কারণে গত দুই মাস ধরে তার দোকান বন্ধ ছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকা বসবাসরত মারুফ হোসেনের ভাই বিল্লাহ হোসেন বরাত দিয়ে কামরুজ্জামান কাউছার জানান, ঘটনার রাতে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি মারুফের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আসে। এ সময় তিনি দোকানের ক্যাশে বসা ছিলেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছেলে মো. সিফাত হোসেন বলেন, তিনি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তেন, তখন তার বাবা দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে পৌঁছে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বাবার প্রবাসে যাওয়ার পর তার ছোট বোনের জন্ম হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বাবার দেশে ফেরা হয়নি।
বাবাকে হারিয়ে শোকাহত সিফাত বলেন, ‘গতকাল রাতে সন্ত্রাসীরা দোকানের ক্যাশে বসা অবস্থায় আমার বাবার বুকে গুলি করে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আমার দাবি, সরকার যেন দ্রুত বাবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করে।’
মারুফ হোসেন এক ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা এই প্রবাসীর এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
কেকে/ এমএস