মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬,
৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
শিরোনাম: একযোগে ১৬ ডেপুটি-সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ      বিকল লঞ্চ থেকে ৯৯৯-এ ফোন, ৮০ যাত্রী উদ্ধার      সেপ্টেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে: ডা. জাহেদ      সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল      সুশাসন ও সংস্কার ছাড়া বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন      দেশজুড়ে কঠোর সতর্কতা      চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী      
খোলাকাগজ স্পেশাল
বিচারহীনতায় বাড়ছে সহিংসতা
প্রণব আচার্য্য
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৮ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

দেশজুড়ে হত্যা-খুন বেড়েই চলছে। সরকারের কোনো উদ্যোগেই কমছে না এসব হত্যাকাণ্ড। কুপিয়ে-পিটিয়ে, মব তৈরি করে পূর্বশত্রুতার জেরে অথবা রাজনৈতিক কারণে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীসহ কয়েকটি স্থানে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।  

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সন্ত্রাসীগোষ্ঠী এবং কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়াভাব কমছে না। অন্যদিকে সরকারও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি সাফল্য দেখাতে পারেনি। এতে অপরাধ বাড়ছে। এর মধ্যে এখন নির্বাচনি মৌসুম। এ সময় রাজনৈতিক সহিংসতাও বেড়ে যেতে পারে। তাই সরকারকে শক্ত হাতে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হতে হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কিছু মানুষ আছে যারা অপরাধপ্রবণ। তারা দেখছে অপরাধ করলে তারা পার পাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে না। মনিটরিং, সার্ভিলেন্স, বিচার এগুলো ঠিক মতো হচ্ছে না।’ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌহিদুল হক বলেন, ‘রাষ্ট্র ও সমাজ যে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে চায় এবং আইনের শাসনের পথে হাঁটতে চায় সেই ব্যবস্থাগুলো আমরা দেখছি না। ফলে অপরাধ বেড়েই চলছে। বিচার নিশ্চিত না করা গেলে এরকম হবে।’ 

গত বুধবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নামের এক আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম।

নাঈম কিবরিয়ার বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়। বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া। নাঈম কিবরিয়া পাবনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাঈম মব সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন। তিনি যে প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন, সেটিও ভাঙচুর করেছে সন্ত্রাসীরা।

ভাটারা থানার এসআই আরিফুল ইসলাম বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি চালাচ্ছিলেন নাঈম। একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারটির ধাক্কা লাগে। তখন মোটরসাইকেলের চালকসহ অজ্ঞাতপরিচয় যুবকেরা নাঈমকে প্রাইভেট কার থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আনেন। তারা তাকে বেদম মারধর করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈমকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের খালাতো ভাই রফিকুল বলেন, নাঈম পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। ১০ দিন আগে তিনি পাবনা থেকে এসে ঢাকার পূর্বাচলে তার (রফিকুল) বাসায় ওঠেন। পাবনায় নাঈমের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় মামলা রয়েছে। এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিতে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন।

একই দিন গভীর রাতে রাজধানীর হাজারীবাগের ঝাউচরে মো. শিপন (২৪) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, শিপনের মাথা, দুই হাত ও পায়ে কোপানোর জখম ছিল। কারা, কেন তাকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। 

গতকাল সকালে হাজারীবাগ থানার এসআই সুমন চন্দ্র বলেন, গত বুধবার রাত আড়াইটার দিকে হাজারীবাগ ঝাউচর সিয়াম স্কুল গলিতে শিপন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিপনকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিপন হাজারীবাগের বড় মসজিদ গলিতে থাকতেন। তার বাবার নাম শাহ আলম।

এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জ শহরের নাগবাড়ি এলাকায় রায়হান নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত রায়হান চাঁদপুর জেলার বহারিয়া বাজারের মৃত বিল্লাল খানের ছেলে ও তাঁতিপাড়া এলাকার ইয়াসিন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক বিক্রি ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ছিলেন রায়হান। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইয়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড। 

ফতুল্লা মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য ও জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

এ ছাড়া কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় তপসি দাস (৪২) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কালীচরণ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে কুতুবদিয়ায় উপজেলার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের কমিরার পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কালীচরণ দাস ওই এলাকার শুক্কুর দাসের ছেলে। নিহত তপসি দাস একই এলাকার প্রবাদ দাসের স্ত্রী। তারা দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তপসি দাস নিজ ঘরের ভেতরে কাজ করেছিলেন। এ সময় তার চাচাতো ভাই কালীচরণ দাস ঘরে প্রবেশ করেন। কোনো কিছু বুঝে না ওঠার আগে তার কোমর থেকে ধারালো দা বের করে তপসি দাসকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুল হক বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতক কালীচরণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আরও জিজ্ঞেসাবাদ চলছে।  

এদিকে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মোকলেছ মোল্যা (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার সন্ধ্যায় ফুকরা ইউনিয়নের তারাইল নাজির কাজীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোকলেছ মোল্যা তারাইল বাজার থেকে সাকিব নামের এক যুবকের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তারা নাজির কাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ৪-৫ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তারা মোটরসাইকেলচালক ও আরোহীকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে সাকিব পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মোকলেছ মোল্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পরে স্থানীয় লোকজন মোকলেছ মোল্যাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ কে এম সিরাজুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

কেকে/এজে


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিচারহীনতা   বাড়ছে সহিংসতা   সহিংসতা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: kholakagojnews@gmail.com, kholakagojadvt@gmail.com

© 2025 Kholakagoj
🔝
close