রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬,
৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর      হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু      রাষ্ট্রপতির শপথ-দায়িত্বভার গ্রহণের প্রজ্ঞাপন জারি      নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা      রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ মির্জা ফখরুলের      প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণমন্ত্রী হলেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত      কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
গজারিয়ায় ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে শিল্প কারখানা
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৩ পিএম আপডেট: ০২.০১.২০২৬ ৬:৫৫ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে শিল্পকারখানা স্থাপনের নামে সরকারের অনুমতি ছাড়াই তিন ফসলি জমি বালু দিয়ে ভরাট করছে ‘সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান—এমন অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যেসব কৃষক প্রতিষ্ঠানের কাছে জমি বিক্রি করতে রাজি নন, তাদের জমিতেও জোরপূর্বক বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন।

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী একটি চক্রের সহযোগিতায় কোম্পানিটি প্রশাসনের নাকের ডগায় কৃষিজমি ভরাট করে চলেছে। নদীর জায়গা ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও জোরপূর্বক ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গজারিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে উপজেলায় তিন ফসলি কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ৫০০ হেক্টর কমেছে। তবে প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, বাস্তবে চিত্র আরও ভয়াবহ। তাদের মতে, গত এক দশকে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

সরেজমিনে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমির পাশে ড্রেজার দিয়ে উঁচু করে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এতে আশপাশের নিচু জমিতে পানি জমে কৃষিকাজ সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও নতুন করে ফসলি জমি ভরাটের উদ্দেশ্যে জমির ভেতরে কংক্রিটের পিলার স্থাপন করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক জানান, এসব জমিতে আগে ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ হতো। কিন্তু পাশের জমি ভরাটের কারণে বালু ও পানি জমে থাকায় এখন চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। কোম্পানিটি যেসব জমি ক্রয় করেনি, সেসব জমিও কার্যত অনাবাদি হয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে যাতে তারা বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করে দেন।

স্থানীয় কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, “এই জমিই ছিল আমাদের সংসারের একমাত্র ভরসা। কোম্পানি জমি ভরাট করে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। চারদিক দিয়ে বালু ফেলে আমাদের ঘিরে ফেলেছে। এমন অবস্থায় তাদের কাছে জমি বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।”

স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, “আমরা আমাদের জমি বিক্রি করিনি। পাশের জমিটি কোম্পানি কিনে সেখানে বালু ফেলার কারণে আমাদের জমির প্রায় অর্ধেক বালুতে ভরে গেছে। আমরা কার কাছে যাব, কোথায় এর প্রতিকার পাব?”

এ বিষয়ে কোম্পানির বক্তব্য জানতে বালু ভরাটের সাইটে গেলে সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি নিজেকে কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয় দেন। নাম ও পদবি প্রকাশ না করে তিনি বলেন, “সরকারের অনুমতি নিয়ে এবং যথাযথ নিয়ম মেনেই এখানে বালু ভরাট করা হচ্ছে। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।”

নদী, খাল ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক শফিক ঢালী বলেন, “গত এক দশকে গজারিয়ায় কৃষিজমি কয়েক হাজার হেক্টরেরও বেশি কমেছে। ফসলি জমি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এসব জমি নষ্ট হলে শুধু কৃষক নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করি।”

এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। সরকারের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক কারও জমি দখল করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কেকে/এলএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  গজারিয়া   কারখানা   জমি  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close