কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার পিতাম্বরদী বাজারসংলগ্ন খিরাই নদীর ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত বেইলি সেতু ধসে ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর পড়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় সেতুর একটি অংশ বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ে এবং অপর অংশ নদীতে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনায় বাল্কহেডটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গৌরীপুর-ভায়া পিতাম্বরদী-নায়েরগাঁও-মতলব দক্ষিণ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
দুর্ঘটনার সময় বাল্কহেডে চালক, সুকানি ও সহকারীসহ প্রায় ২০ জন অবস্থান করছিলেন। সেতু ধসে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনায় একজন আহত হন। এছাড়া তাদের সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, কাপড়চোপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল নদীতে হারিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাল্কহেডের মালিক জুয়েল পাটোয়ারী জানান, ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ইট নিয়ে ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় তারা গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যায় খিরাই নদী দিয়ে যাওয়ার সময় পিতাম্বরদী এলাকার বেইলি সেতুর নিচে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে সেতুর একটি অংশ বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাল্কহেডটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের ব্যক্তিগত প্রায় সব মালামাল নদীতে তলিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
বাল্কহেডের শ্রমিক কাশেম মিয়া বলেন, ‘প্রাণে বাঁচলেও টাকা, মোবাইল ফোন, পোশাকসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নদীতে হারিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার পর আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামতের কাজ চলছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়ার অভিযোগ, মেরামতের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
তার দাবি, শ্রমিকরা সংযোগের নাট খুলে ফেলায় সেতুর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সেটি ধসে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর মেরামতকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ব্যবসায়ী নূরে আলমগীর জানান, খিরাই নদীর ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০১৬ সালে সেখানে অস্থায়ীভাবে বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। পরে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, গৌরীপুর-ভায়া পিতাম্বরদী -নায়েরগাঁও-মতলব দক্ষিণ আঞ্চলিক সড়কটি দাউদকান্দি এবং চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও সদর উপজেলার মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সেতু ধসে পড়ায় এ সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
দাউদকান্দি উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি সেতুর প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে একই নদীর ওপর থাকা আরেকটি সেতু ব্যবহার করে আপাতত যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খিরাই নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণের জন্য গত ২০ জুলাই প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ৩০ জুলাই নির্মাণস্থল ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে শিগগিরই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।’
কেকে/এমএ