নাটোরের লালপুর উপজেলার বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া চাঁদা দাবির চিঠিকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারকে লক্ষ্য করে দেওয়া এসব চিঠিতে ২০ হাজার টাকা করে দাবি করা হয়েছে, না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে পালপাড়ার পাঁচটি বাড়িতে এ ধরনের চিঠি পাওয়া যায়।
চিঠিতে সব হিন্দু পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিতে বলা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
লালপুর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বাকনাই গ্রামের পালপাড়ায় ৫৫টি হিন্দু পরিবারের বসবাস। শনিবার রাত ১১টার দিকে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় তার ছেলে অরুণ কুমার পাল একটি চিঠি দেখতে পান। তিনি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। দ্রুতই খবরটি প্রতিবেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে দেখা যায়, অজামিল পাল, সুব্রত পাল, অধির পাল ও ষষ্ঠী পালের বাড়িতেও একই ধরনের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
‘সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ’ নাম ব্যবহার করে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনাদের বাড়িতে একটি চিঠি দিলাম, আশা করি, কোনো বিকল্প চিন্তা করবেন না। মনে রাখবেন, জীবন গেলে যাবে আপনাদের পরিবারের, ভালো মনে ২০ হাজার টাকা দিয়ে দিবেন।’
এছাড়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। যোগাযোগের জন্য একটি মুঠোফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দেওয়া হয়।
চিঠিতে দেওয়া নম্বরে রোববার (২ আগস্ট) বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনার পর থেকে পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, ‘ঘটনা শোনার পর আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানিয়েছি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমরা চাই. দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষের আতঙ্ক দূর হয়।’
খবর পেয়ে শনিবার রাতেই লালপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং চিঠি জব্দ করে। পুলিশ এর উৎস শনাক্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। চিঠিটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর উৎস অনুসন্ধান করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
তিনি জানান, চিঠিতে উল্লেখিত বিকাশ নম্বরটি বন্ধ রয়েছে। নম্বরটি সিলেট এলাকার।
কেকে/এমএ