দেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কোনো নাগরিক অবস্থান গ্রহণ করতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধই আমাদের পরিচয় দিয়েছে, স্বাধীন ভূখণ্ড দিয়েছে ও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকার জিয়া উদ্যানে মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্প অর্পণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়। এই স্লোগানই আমাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।’
এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কখন আপস হয়নি, হবে না বলে মন্তব্য করেন ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্ব বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে গ্রহণ করেছে, তা তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনই স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এর পাশাপাশি দেশ-বিদেশে আন্তর্জাতিক মিডিয়া, কূটনৈতিক মহল এবং সুশীল সমাজে গত এক বছরে তারেক রহমানের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে উপস্থাপিত রূপরেখা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।’
‘একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে তারেক রহমান পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনাও জাতির সামনে তুলে ধরেছেন।’
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে উপমহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তির নানামুখী স্বার্থ জড়িত। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ভূখণ্ড, স্বাধীন রাষ্ট্র, পতাকা ও সংবিধান অক্ষুণ্ন রেখে বাংলাদেশকে কীভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।’
এ সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব কেএম কামরুজ্জামান নান্নু উপস্থিত ছিলেন।
কেকে/এমএ